ব্যবসার নামে বন্ধু ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মমিনুল ইসলাম মন্ডল ওরফে মইম সুমন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় দায়ের করা প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়া শহরের প্রেসপট্টিতে নিজের দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সুমন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার কিশামত দশনিয়া গ্রামের শাহাদাৎ হোসাইন মন্ডলের ছেলে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে বন্ধুদের নিয়ে ব্যবসা শুরু করার প্রস্তাব দেন সুমন। এরপর বেঙ্গল শ্রমজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড, তেজারা এক্সপোর্ট ইমপোর্ট লিমিটেড ও তেজারা প্রপার্টিজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি। এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালক করার কথা বলে বন্ধুদের কাছ থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা সংগ্রহ করেন। তবে, প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ছিল মূলত লোকদেখানো।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ব্যবসার বিশ্বাসযোগ্যতা দেখাতে ঢাকার গুলিস্তান থেকে ৪০ থেকে ৫০টি নন-ব্র্যান্ডের টেলিভিশন কিনে সেগুলোতে ‘তেজারা টিভি’ লোগো লাগানো হয়। পরে চীন থেকে আমদানি করা টেলিভিশন হিসেবে সেগুলো পরিচিতজনদের দেখানো হয়। এতে, বিশ্বাস করে অনেকে পর্যায়ক্রমে টাকা বিনিয়োগ করেন। প্রায় এক বছর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দেখানোর পর আত্মগোপনে চলে যান সুমন।
সম্প্রতি ভুক্তভোগী ওমর ফারুক বগুড়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী বলেন, প্রতারণার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় সুমনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
