
দক্ষিণ সুরমা প্রতিনিধি : সিলেট নগরীর প্রবেশদ্বার চণ্ডীপুলে সড়ক সংস্কারকাজের ধীরগতিতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। হুমায়ুন রশিদ চত্বর থেকে চণ্ডীপুল পর্যন্ত আরসিসি ঢালাই সড়কের কাজ প্রায় তিন মাস ধরে চললেও এখনো শেষ হয়নি। মাত্র ১০০ থেকে ২০০ ফুট অংশের কাজ বাকি থাকায় প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রী, চালক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
সিলেটকে আধ্যাত্মিক ও পর্যটন নগরী হিসেবে দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ আসেন। কিন্তু ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট পেরিয়ে নগরীতে প্রবেশের মুখেই চণ্ডীপুলে এসে আবারও যানজটে আটকে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। অনেক সময় এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হুমায়ুন রশিদ চত্বর থেকে চণ্ডীপুল পর্যন্ত সড়কের আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ চলছে ধীরগতিতে। নির্মাণকাজের জন্য সড়কের এক পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করায় নিয়মিত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। একপর্যায়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী মানুষকে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের অল্প একটি অংশের সংস্কারকাজ দীর্ঘদিন ধরে চলায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে। দুই মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেছে। সরেজমিনে কাজের স্থানে রোলার দেখা গেলেও শ্রমিকদের কাজ বন্ধ রেখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংশ্লিষ্ট কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি।
চণ্ডীপুলে যানজটের কারণে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যানবাহন চলাচলে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের আয় কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি এবং মহাসড়কের যানজট মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করে জনদুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বৃহত্তর চণ্ডীপুল ব্যবসায়ী ঐক্য কমিটি।
এদিকে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের লালাবাজার এলাকায়ও বিভিন্ন স্থানে সড়ক ভাঙা ও খানাখন্দে ভরে গেছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। সিএনজিচালক কাইয়ূম মিয়া বলেন, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙাচোরা অবস্থা ও বড় বড় গর্তের কারণে গাড়ি চালাতে সমস্যা হচ্ছে। কয়েক দিন আগে লালাবাজারের বাহাপুর এলাকায় যানজটে আটকে থাকা অবস্থায় এক নারী প্রসববেদনার মধ্যে সন্তান জন্ম দেন বলেও তিনি জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় গর্ত ও খানাখন্দ থাকায় প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহনের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বাড়ছে চালকদের ভোগান্তি। এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বলেন, হুমায়ুন রশিদ চত্বর থেকে চণ্ডীপুল পর্যন্ত আরসিসি সড়কের কাজ চলমান রয়েছে। বাকি অংশের কাজ খুব দ্রুত শেষ করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, চণ্ডীপুলের বাকি অংশের সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভাঙা অংশগুলোও মেরামত করা হবে, যাতে জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে আসে।
