গাজীপুরের শ্রীপুরে স্বামীকে ঘরে আটকে রেখে এক পোশাককর্মীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে দলবেঁধে ধর্ষণের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ধনুয়া গ্রামে সংঘটিত এ নৃশংস ঘটনায় ফারুক ও নয়ন নামে দুই যুবকের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে আসামি করে শ্রীপুর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে শ্রীপুর থানার
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযানে নেমেছে।
মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন— সিলেট জেলার কোতোয়ালি থানার মাজারখানা এলাকার মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. ফারুক (৩২) এবং শ্রীপুরের ধনুয়া গ্রামের মৃত সুলতান মুন্সির ছেলে নয়ন (১৯)। আসামিদের মধ্যে ফারুক স্থানীয় একটি বাড়িতে ভাড়া থেকে বসবাস করে আসছিলেন। ধর্ষণের শিকার ওই নারী তার স্বামীর সঙ্গে একই উপজেলার নয়নপুর গ্রামে ভাড়া থাকেন এবং স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর (সোমবার) রাত ৯টার দিকে আসামি ফারুক কৌশলে ভুক্তভোগী নারীর স্বামীকে ডেকে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখে। এই সুযোগে অপর আসামি নয়ন ওই নারীর ভাড়া বাসায় প্রবেশ করে এবং তাকে টেনেহিঁচড়ে পাশের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে নিয়ে যায়। পরে ফারুক ও নয়ন পর্যায়ক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় বাইরে পাহারায় থাকা আরও দুই অজ্ঞাত যুবক ঘরে ঢুকে তাকে নির্যাতন চালায়। নারীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, ভুক্তভোগীর চিকিৎসার পাশাপাশি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
