রাজ্যের পালাবদলের পর দুর্নীতির অভিযোগ তুলে একাধিক তৃণমূল নেতাকে পাকড়াও করা হচ্ছে। একাধিক জায়গায় তৃণমূল নেতা নিগ্রহের শিকারও হচ্ছেন বলে অভিযোগ। এবার হুগলির জাঙ্গিপাড়ায় জনরোষের মুখে পড়লেন তৃণমূল নেতা। তাঁকে লক্ষ করে চলল ‘ডিমথেরাপি’। শুধু তাই নয়, ওই তৃণমূল নেতাকে ধরে খালি গায়ে কোমরে দড়ি পরিয়ে এলাকায় ঘোরানো হয়েছে! ঘটনা নিয়ে এলাকায় যথেষ্ঠ রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে।
জাঙ্গিপাড়ার রাজবলহাট-১ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা তৃনমূল নেতা বাবলু শীল। তৃণমূলের শাসনকালে বাবুল শীলের নামে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। যদিও সেসময় স্থানীয়রা ভয়ে কোনও প্রতিবাদ করতেন না। রাজ্যে পালাবদলের পরে বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল নেতারা জনরোষের শিকার হচ্ছেন। এবার বাবুল শীলকে ঘিরেও চলল জনরোষ। এদিন রাস্তাতেই তাঁকে আটকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।
ওই পঞ্চায়েত উপপ্রধানকে ঘিরে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, পরনের জামা খুলিয়ে কোমরয়ে পরানো হয় দড়ি! এরপর এলাকার রাস্তাতেই কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানো হল। তাঁকে লক্ষ্য করে ছোড়া হতে থাকে ডিম। এলাকার লোকজন সেই ঘটনার ভিডিও করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জাঙ্গিপাড়া থানার পুলিশ। ওই তৃণমূল নেতাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাবলু শীল বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি আমি। পরিকল্পিতভাবে আমাকে এটা করা হয়েছে।”
বিজেপির লোকজন এই কাজ করেছে বলে অভিযোগ। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাঙ্গিপাড়ার বিধায়ক প্রসেনজিৎ বাগ। তিনি বলেন, “গত সরকারের আমলে রাজারহাট -১ পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধানরা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পরায় মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছিল। তার বহিঃপ্রকাশ আজ ঘটেছে।” বিধায়ক আরও বলেন, “বিজেপি কখনওই এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা সমর্থন করে না। এই ঘটনা দুঃর্ভাগ্যজনক।”
