পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) শাসিত প্রাদেশিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার।
সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদিকে আটকের পর এখন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
সোহাইল আফ্রিদিকে আটকের ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে পিটিআই। তবে সোহাইল আফ্রিদিকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার।
সরকার জানিয়েছে, বিভিন্ন মামলায় ‘ওয়ান্টেড’ কয়েকজনকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আটক করা হয়েছে।
পিটিআইয়ের মুখপাত্র শেখ ওয়াকাস আকরাম বলেছেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ার নির্বাচিত নেতৃত্বকে দুর্বল করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই এ আটক করা হয়েছে।
রোববার জরুরি অবস্থা জারির পর প্রদেশটিতে গভর্নর শাসন জারি করা করা হয়। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন বেসামরিক সরকারকে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংবিধানের ২৪৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
যতদিন পর্যন্ত জরুরি অবস্থা ও গভর্নর শাসন জারি থাকবে ততদিন পর্যন্ত সেনা মোতায়েন থাকবে বলে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এর আগে ৫ অক্টোবর থেকে ইমরান খানকে মুক্ত করতে রাজধানী ইসলামাবাদের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু করে পিটিআই। তাদের নেতাকর্মীরা খাইবার পাখতুনখাওয়াতেই অবস্থান করছিল। পিটিআইয়ের নেতাকর্মীরা ইসলামাবাদে প্রবেশ করবে এমন আশঙ্কায় রোববার থেকেই রাজধানীতে রের্ড অ্যালার্ট ও ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এরমধ্যে আজ খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করার পর সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, সেনারা সাধারণ মানুষের জানমাল ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় নিয়োজিত থাকবে। আর সদ্যই ক্ষমতা পাওয়া গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন।
সেনা মোতায়েনের পর খাইবার পাখতুনখাওয়ার বড় বড় সব সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে করে প্রদেশ জুড়ে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র: জিও নিউজ
