
ব্রাহ্মণপাড়ায় গোখরা সাপ ও ২১ বাচ্চা পিটিয়ে মারল জনতা
মো. আনোয়ারুল ইসলাম
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ধান্যদৌল দক্ষিণপাড়া গ্রামে বসতঘরের পাশে বাঁশঝাড়ের নিচে লাকড়ির স্তূপের তলায় একটি বিষধর গোখরা সাপ ও ২১টি সাপের বাচ্চার সন্ধান পেয়েছেন স্থানীয় লোকজন। পরে সাপগুলো পিটিয়ে মেরে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধান্যদৌল দক্ষিণপাড়া গ্রামের আনু মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আনু মিয়ার ছেলে মোস্তফা বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে বাড়ির উঠানে ও বসতঘরের আশপাশে ছোট ছোট সাপের বাচ্চা ছুটাছুটি করতে দেখেন। এ সময় একটি সাপের বাচ্চা পিটিয়ে মারার পর আরও কয়েকটি বাচ্চা বাড়ির উঠানে ছুটাছুটি করতে থাকে। পরে তিনি একে একে পাঁচটি সাপের বাচ্চা মেরে ফেলেন।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে একইভাবে সাপের বাচ্চা দেখতে পেয়ে আরও চারটি মেরে ফেলেন মোস্তফা। পরে তিনি স্থানীয় লোকজনকে খবর দেন। তাঁরা ঘটনাস্থলে এসে সাপের বাচ্চাগুলো কোথা থেকে বের হচ্ছে, তা খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশে বাঁশঝাড়ের নিচে রান্নার জ্বালানি হিসেবে রাখা লাকড়ির স্তূপের তলা থেকে সাপের বাচ্চাগুলো বের হতে দেখেন তাঁরা।
পরে লাকড়ি সরিয়ে সেখানে একটি গর্ত দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। গর্তে পানি ঢাললে একটি কালো গোখরা সাপসহ আরও কয়েকটি সাপের বাচ্চা বেরিয়ে আসে। এ সময় স্থানীয় লোকজন সাপগুলো পিটিয়ে মেরে ফেলেন। পরে গণনা করে একটি গোখরা সাপ ও ২১টি সাপের বাচ্চা পাওয়া যায়। এরপর সেগুলো মাটিতে গর্ত করে পুঁতে রাখা হয়।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোস্তফা কামাল বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। তবে এভাবে বন্যপ্রাণী পিটিয়ে হত্যা করা উচিত নয়। সাপের কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকতে আমাদের সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, সাপ দেখলে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে হত্যা না করে নিরাপদ দূরত্বে থাকা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়া উচিত।
ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা
ট্যাগ: বৃহত্তর কুমিল্লা জাতীয় রাজনীতি
