নাটোরের লালপুরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার ১৬ দিন পেরিয়ে গেলেও সন্ধান মেলেনি আলতাব আলী (২৯) নামের এক ব্যক্তির। এ ঘটনায় চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার দুয়ারিয়া ইউনিয়নের সাতপুকুরিয়া বাজারে এলাকাবাসী আলতাব আলীকে খুঁজে পেতে মানববন্ধন করেন।
সরেজমিনে গেলে ছেলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানান আলতাবের পিতা আনসার আলী ।
আনছার আলী অভিযোগ করে বলেন, প্রায় ১৬ দিন আগে সাতপুকুরিয়া মোড় থেকে স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী লিটনের সহযোগিতায় সুমির মিস্ত্রি নামের এক ব্যক্তি আলতাব আলীকে সঙ্গে নিয়ে ভ্যানযোগে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার আড়কান্দি এলাকায় ফার্নিচারের মালামাল পৌঁছে দিতে যান। সেখানে মালামাল পৌঁছে দেওয়ার পর সুমির মিস্ত্রি নিজ এলাকায় ফিরে এলেও আলতাব আর বাড়ি ফেরেননি। এরপর থেকেই তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, আলতাব বাড়ি ফিরে না আসায় সুমির মিস্ত্রি ও কাঠ ব্যবসায়ী লিটনের কাছে তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা আলতাবের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এদিকে নিখোঁজের পর পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও আলতাবের কোনো সন্ধান পাননি। পরে গত ৪ অক্টোবর লালপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা আনছার আলী।
নিখোঁজ আলতাবের মামা মন্টু মালিথা জানান থানায় জিডি করার পর থেকেই সুমির মিস্ত্রি তার ফার্নিচারের দোকান বন্ধ রেখে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। অন্যদিকে কাঠ ব্যবসায়ী লিটনের বক্তব্য ও আচরণেও অসংগতি রয়েছে । এসব কারণে আলতাফের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ওই দুই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান এ ঘটনায় নিখোঁজ আলতাফের বাবা আনছার আলী বাদী হয়ে গত ১৪ অক্টোবর লালপুর থানায় সুমির মিস্ত্রি ও কাঠ ব্যবসায়ী লিটনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে সুমির মিস্ত্রি জানান আলতাব তার সঙ্গে ঈশ্বরদী এলাকায় কাজে যায়। কাজ শেষে সন্ধ্যার দিকে তিনি আলতাবকে সাতপুকুরিয়া সেন্টার মোড়ে ভ্যান থেকে নামিয়ে দিয়ে বাজার শেষে দোকান বন্ধ করে বাড়ি আসেন। পরে রাত ৯টার দিকে জানতে পারেন আলতাবকে পাওয়া যাচ্ছে না।
আলতাবের নিখোঁজের পর থেকে দোকান বন্ধ রেখে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে জানতে চাইলে সুমির জানান শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে আমার দোকান বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া আমাকে বিভিন্ন মানুষ আলতাবের নিখোঁজের বিষয়ে হুমকি দেওয়ায় নিজের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে আমি দোকানে যায় নাই।
কাঠ ব্যবসায়ী লিটন আলী জানান মিস্ত্রি সুমিরের সাথে আলতাব কাজে যায় এবং সন্ধ্যার দিকে সাতপুকুরিয়া সেন্টার মোড়ে একটি ভ্যানে করে ফিরে আসে তারা। সুমির তাকে জানিয়েছেন সাতপুকুরিয়া মোড়ে আলতাবকে নামিয়ে দিয়ে সে বাজার শেষে দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যায়।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আলতাবের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। প্রতিদিনই তার ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। আলতাব জীবিত ও সুস্থ আছেন কি না, তা নিয়েও পরিবারের মধ্যে গভীর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা এবং আলতাবকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। নিখোঁজ আলতাফ আলীকে উদ্ধার এবং ঘটনার পেছনের মূল রহস্য উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত চলছে।
