যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় সৌদি আরবকে রক্ষার জন্য যুক্তরাজ্য রয়্যাল এয়ার ফোর্সের টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করবে।
ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটির আকাশপথে চালানো হামলা থেকে সৌদি আরবের শহর ও অবকাঠামো রক্ষায় এই প্রতিরক্ষামূলক অভিযান সহায়তা করবে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এই পদক্ষেপের অনুমোদন দিয়েছেন।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং দেশটির উপকূলীয় এলাকার জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হুথিদের হামলার পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং মঙ্গলবার এক লিখিত বিবৃতিতে বলেন, “এই বিমানগুলো প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকায় কাজ করবে এবং হুথিদের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণাত্মক হামলা চালাবে না।”
হুথিরা ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে গৃহযুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। ওই সরকারকে সৌদি আরব সমর্থন করে। ২০১৪ সালে হুথি গোষ্ঠী ইয়েমেনের রাজধানী সানা থেকে সরকারকে উৎখাত করে।
সেপ্টেম্বর থেকে ইয়েমেনে এক ধরনের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর হুথিদের হামলা থেকে নিজেদের আকাশসীমা রক্ষা করতে সৌদি আরবকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
হুথিরা ইয়েমেনের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করে এবং গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
সৌদি বিমান সহায়তায় সরকারি বাহিনী পাল্টা অভিযান চালায়। এর জবাবে হুথিরা সৌদি ভূখণ্ডের গভীরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।
হুথিরা সফলভাবে সৌদি আরবের বিভিন্ন অবকাঠামোতে আঘাত হানে। এসবের মধ্যে রয়েছে কিং খালিদ বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর।
সৌদি কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে জানিয়েছে, দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে হুথিদের হামলায় ১৯ জন নিহত হয়েছেন।
গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০৮ জন আহত হন। গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে এটিই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।
