আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান আরামকোর ধাহরান কার্যালয় ও রাজধানী রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। হামলায় ধাহরানে প্রতিষ্ঠানটির একটি ভবনে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। তবে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।
১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে বলে আপনার দেওয়া খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।
হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির দাবি, ধাহরানে আরামকোর স্থাপনা ছাড়াও রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রাজধানীর একটি তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে সমন্বিত অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী দিনগুলোতেও সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত থাকতে পারে।
সৌদি সরকারের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধাহরানে আরামকোর একটি ভবনে আঘাতের পর সেখানে সীমিত আকারে আগুন লাগে। এতে কেউ হতাহত হননি বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, আরামকোর দুই কর্মীর বরাতে ভবনটির একটি টাওয়ারের ওপরের তিনটি তলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিহত করা দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে রাজধানীতে চারজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুই নারী, একজন পুরুষ ও একটি শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় ১৫টি আবাসিক বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরামকোর ভবনের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এএফপিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই কর্মী জানান, সদর দপ্তরের একটি টাওয়ারের ওপরের তিনটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরবে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রিয়াদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দূরশিক্ষা চালু এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজের নির্দেশ দেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে বিমান চলাচল ও বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনেও বিঘ্ন ঘটেছে।
অন্যদিকে, হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ বিভিন্ন এলাকায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে ইয়েমেনে জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার পর হুথিরা সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দেয়। পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই পক্ষের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
