আজকাল ওয়েবডেস্ক: একবার নয়, একাধিকবার পুলিশের অভিযান। তারপর আড়ালে চলছিল নিষিদ্ধ শব্দবাজি তৈরির কারবার। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন থানার তুরকা গ্রামে ফের বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ শব্দবাজি উদ্ধারের ঘটনায় উঠছে সেই প্রশ্ন। এবার শুধু পুলিশ বাহিনী নিয়ে তল্লাশি নয়, আকাশে ড্রোন উড়িয়েও চলল নজরদারি। অভিযানে উদ্ধার হল প্রায় এক কুইন্টাল নিষিদ্ধ শব্দবাজি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দাঁতনের তুরকা গ্রামে নিষিদ্ধ শব্দবাজি তৈরির অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও ওই এলাকায় একাধিকবার তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। কিন্তু তাতেও যে বেআইনি কারবার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, সাম্প্রতিক অভিযানের পর ফের সেই আশঙ্কাই সামনে এসেছে।
সম্প্রতি পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে, তুরকা গ্রামে নতুন করে নিষিদ্ধ শব্দবাজি তৈরি করা হচ্ছে। খবর পেয়েই অভিযানের পরিকল্পনা করে পুলিশ। বেলদার এসডিপিও আনন্দ মণ্ডলের নেতৃত্বে এবং দাঁতন থানার আইসি সুবীর মাঝির তত্ত্বাবধানে বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকায় অভিযান চালায়।
এবারের অভিযানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিতে। গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন উড়িয়ে আকাশপথে নজরদারি চালানো হয়। পাশাপাশি চলে পুলিশের তল্লাশি। সেই অভিযানেই উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ শব্দবাজি। উদ্ধার হওয়া বাজির আনুমানিক ওজন প্রায় ১০০ কিলোগ্রাম বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে এতবার পুলিশি অভিযান চালানোর পরেও কীভাবে নতুন করে নিষিদ্ধ শব্দবাজি তৈরির অভিযোগ উঠছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পুলিশের নজর এড়িয়ে কি ফের সক্রিয় হয়ে উঠছে বেআইনি বাজি তৈরির চক্র? নাকি পুরনো কারবারই অন্য ভাবে চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে? এই প্রশ্নগুলিই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকায়।
নিষিদ্ধ শব্দবাজি তৈরি ও মজুতের ঘটনায় শুধু আইনভঙ্গের অভিযোগই নয়, বাসিন্দাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িয়ে রয়েছে। বিপুল পরিমাণ বাজি মজুত থাকলে যে কোনও অসতর্কতায় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়। ফের প্রায় এক কুইন্টাল নিষিদ্ধ শব্দবাজি উদ্ধারের ঘটনায় তাই পুলিশের অভিযান যেমন তাৎপর্যপূর্ণ, তেমনই প্রশ্ন উঠছে বেআইনি কারবারের স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়া নিয়েও। তুরকা গ্রামে ধারাবাহিক অভিযানের পর এবার নিষিদ্ধ শব্দবাজির কারবারে কতটা রাশ টানা সম্ভব হয়, সেটাই দেখার।
https://www.youtube.com/watch?v=JwFdq_tA9cE
