ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে অবস্থান নিতে রাজি নন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যুক্ত না হয়ে নিজ দেশের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দিতে চান তিনি। এ অবস্থানের মধ্য দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন থেকে নিজেকে আলাদা রাখলেন ভ্যান্স।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সাংবাদিক মার্ক হালপেরিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট। এর আগের দিনই ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন। ফলে একই প্রশাসনের দুই শীর্ষ নেতার বক্তব্যে ইসরায়েলের নির্বাচন নিয়ে ভিন্ন অবস্থান দেখা গেছে।
সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স জানান, নেতানিয়াহুকে সমর্থন করা কিংবা তাঁর বিরোধিতা—কোনোটিতেই তিনি যেতে চান না। ইসরায়েলের নির্বাচনে সম্পৃক্ত হওয়ার কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই। বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রার্থীদের সমর্থন এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়েই তিনি ব্যস্ত থাকতে চান।
ভ্যান্সের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা চলছে। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে তাঁকে শক্তিশালী নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে বিদেশি নির্বাচনে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে ভ্যান্সের আগের ভূমিকার সঙ্গে বর্তমান বক্তব্যের পার্থক্য রয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে হাঙ্গেরির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ওই নির্বাচনে অরবানের দল পরাজিত হয়। এবার ইসরায়েলের নির্বাচনে একই ধরনের অবস্থান নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।
ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বিষয়ে ভ্যান্সের অবস্থান অবশ্য পুরোপুরি নেতিবাচক নয়। তিনি দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রতার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার পক্ষে। তবে ইসরায়েল সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাতের বিষয়ে তাঁর আগের মন্তব্য নিয়ে রিপাবলিকান দলের কিছু সদস্যের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
গত জুনে ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিরসনে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগের বিরোধিতা করায় ইসরায়েলি সরকারের সমালোচনা করেছিলেন ভ্যান্স। সে সময় তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, জাতীয় নিরাপত্তার প্রতিটি সমস্যার সমাধান কেবল প্রাণহানির মাধ্যমে করা সম্ভব নয়। এ ছাড়া ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্বও ইসরায়েলি নেতৃত্বকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদেও গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চলাকালে দেশটিকে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে ওয়াশিংটন। একই সময়ে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আলোচনায় ভ্যান্সের এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের মধ্যে ইসরায়েলনীতি নিয়ে মতপার্থক্যের বিষয়টিও সামনে এনেছে। তবে নেতানিয়াহুকে সমর্থন না করার বিষয়ে ভ্যান্সের বক্তব্যকে সরাসরি তাঁর বিরোধিতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি মূলত ইসরায়েলের নির্বাচনে নিরপেক্ষ থাকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মনোযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
