দুই কর্মসূচির মাধ্যমে নিরাপদ কীটনাশক ব্যবস্থাপনা এবং গ্রামীণ নারীদের ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য যৌথভাবে ৪ লাখ ৪৭ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান সহায়তা দেবে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)।
রোববার (১৮ অক্টোবর) আগারাগাঁওয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে দুটি প্রকল্প দলিলে সই হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে সই করেন ইআরডির সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী।
বিজ্ঞাপন
নিরাপদ কীটনাশক ব্যবস্থাপনায় জাতিসংঘ প্রকল্পের আওতায়, নিরাপদ কীটনাশক ব্যবস্থাপনার জন্য ২ লাখ মার্কিন ডলার দেবে এফএও। চার বছর মেয়াদী ‘কীটনাশকের জীবনচক্র ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি এফএও-চীন দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা কর্মসূচির একটি অংশ। চীনের কৃষি ও পল্লী বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে।
বাংলাদেশ ২ লাখ মার্কিন ডলার পাবে এবং প্রকল্পটি ইথিওপিয়া, ঘানা, জর্ডান ও কিরগিজস্তানকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে। প্রকল্পটি হালনাগাদ কীটনাশক বিধিমালা, ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী প্রয়োগ ব্যবস্থাকে সহায়তা করবে। এটি কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারের সক্ষমতাও উন্নত করবে এবং নিরাপদ কীটনাশক ব্যবহার সম্পর্কে কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করবে।
বিজ্ঞাপন
প্রকল্পের দলিলে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের ৩০ শতাংশেরও বেশি সবজি অতিরিক্ত কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ দ্বারা দূষিত বলে জানা গেছে। ২০২৬ সালের ১০ জুন ইআরডি-তে অনুষ্ঠিত একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর এফএও প্রকল্পের দলিলটি সংশোধন করেছে।
কৃষি মন্ত্রণালয় প্রকল্প টাস্ক ফোর্সের নেতৃত্ব দেবে, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) বাস্তবায়নে নিযুক্ত থাকবে, জাতীয় প্রকল্প সমন্বয়কারী বাংলাদেশে অবস্থান করবেন এবং বাজেট যৌক্তিকীকরণ করা হয়েছে।
নারীদের ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রসারে জাতিসংঘ অনুদান
নারী-নেতৃত্বাধীন সবুজ উদ্যোগের জন্য ২ লাখ ৪৭ হাজার মার্কিন ডলার। দ্বিতীয় দলিলে ‘গ্রিন রুটস উইমেন্স ফার্ম ল্যাবস’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা বাংলাদেশ ও উগান্ডায় পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালিত একটি ২৪-মাসব্যাপী উপ-কর্মসূচি। এতে বাংলাদেশের অংশ ২ লাখ ৪৭ হাজার মার্কিন ডলার। উদ্যোগটি এফএও-এর ‘ফার্মার ফিল্ড স্কুল’ পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এটি গ্রামীণ নারীদের প্রশিক্ষণ, উপযুক্ত প্রযুক্তি এবং অর্থায়ন ও বাজারের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করতে ও তা প্রসারিত করতে সাহায্য করবে।
বিজ্ঞাপন
এর জাতীয় অংশীদাররা হলো কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং সারা বাংলা কৃষক সমিতি। উদ্যোগটি ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষের সাথে একযোগে পরিচালিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশে এফএও-এর প্রতিনিধি ড. জিয়াওকুন শি বলেন, নিরাপদ কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং গ্রামীণ নারীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টিতে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করতে পেরে এফএও আনন্দিত।
বিজ্ঞাপন
তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে এফএও অর্ধ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে।
ইআরডি-র সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বলেন, এই প্রকল্পগুলো নিরাপদ খাদ্য, জলবায়ু-সহনশীল জীবনযাত্রা এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতি আমাদের যৌথ অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। ইআরডি কার্যকর সমন্বয় সাধনে সহায়তা অব্যাহত রাখবে, যাতে এর সুফল কৃষক ও গ্রামীণ নারীদের কাছে পৌঁছায়।
ইআরডি ও এফএও সম্পর্কে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন ইআরডি জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সহায়তাসহ বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক সম্পদের সমন্বয় সাধন করে।
বিজ্ঞাপন
এফএও হলো জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা, যা ক্ষুধা নিবারণ এবং পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দেয়।
এমওএস/এমআইএইচএস
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
