আজকের যুগেও, যে কোনও আকর্ষণীয় ও আত্মবিশ্বাসী নারীকে – যারা সমাজের প্রথাগত নারী টেমপ্লেটে বন্দি নয়, তাদের ‘ডাইনি’ বলে আখ্যা দিতে পিছপা হয় না মানুষ। বালাজি মোহনের ‘নয়ি নভেলি’ ছবির শুরুতেও একান্নবর্তী পরিবারের বউমা মোহিনী (ইয়ামি গৌতম) সম্পর্কে এমনটাই ভেবে বসে তার দেওর বান্টু (অনুরাগ ঠাকুর)।
ছবির শুরুতেই মীরাটবাসী এই পরিবারকে একসঙ্গে ছাদে ডেকে বান্টু বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে এটাই বারবার তার বাড়ির লোকজন এমনকী দাদা রাজাকেও (আদিনাথ কোঠারে) বোঝাতে চায় যে, মোহিনী কোনও সাধারণ নারী নয়। তার মধ্যে এমন কোনও শক্তি আছে, যা সাধারণ মানুষের থাকে না। অগত্যা বান্টি, তার বন্ধু ও পরিবারের পুরোহিত তাকে ‘ডাইনি’ বলে আখ্যা দিতে চায়।
এই ছবি দেখতে গিয়ে শুরু থেকে যা যা দর্শক মনে করবেন, তার অনেক কিছুই ছবি খানিকটা এগনোর পর আর মিলবে না। সেই দিক থেকে ‘নয়ি নভেলি’ প্রত্যাশার পথ ধরে চলে না। কিন্তু তাতে কি ছবির গুণগত মান বেড়ে যায়? বোধহয় না। বান্টুর কথা শুনে আওয়াস্থি পরিবারের সদস্যদের মতো জনগণের মনেও সন্দেহ তৈরি হবে যে মোহিনী কোনও অসৎ উদ্দেশ্য নিয়েই রাজাকে বিয়ে করে এই পরিবারে এসেছে। কিন্তু খানিক পরেই এই ভুল ভাঙবে সকলের। ঠিক তেমনি, প্রথম প্রথম মনে হবে এই ছবি একটি ‘হরর কমেডি’ যার মধ্যে ভয় ও মজা দুটোই লুকিয়ে আছে। কিন্তু ছবি এগনোর সঙ্গে সঙ্গে সেই ভুলও ভাঙবে দর্শকের।
এই গল্প যেভাবে শুরু হয়, তাতে মনে হবে এর মধ্যে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু দিব্য নিধি শর্মার বিক্ষিপ্ত চিত্রনাট্য ও পরিচালকের দুর্বল বাস্তবায়নের ফলে, সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। ছবির ধারা হিসেবে ‘হরর কমেডি’ বিগত কয়েক বছরে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। গল্পের প্রথমার্ধে এই ধারার অনেকটাই আভাস মিলবে ছবিতে। বিশেষ করে মীরাটের আওয়াস্থি পরিবারের বেশ কিছু সদস্যের সংলাপ ও উপস্থিতি নয়ের দশকের কমেডি ধারাবাহিকের কথাও মনে করিয়ে দেবে।
কিন্তু সমস্যা তৈরি হবে তখনই যখন ‘কমেডি হরর’-এর ধারা বদলে এই ছবি পুরোপুরি ঢুকে পড়বে পৌরাণিক কাহিনিতে, যেখানে একেবারেই কোনও নতুনত্ব নেই। ছবির শুরুর আগে অবশ্য দাবি ছিল কোনও অন্ধবিশ্বাসকে উস্কে দেওয়ার বিরুদ্ধে এই ছবি। কিন্তু গল্পের বেশিরভাগটাই কীভাবে মীরাট শহরের সঙ্গে রামায়ণের যোগাযোগ রয়েছে, ভালো-মন্দের যুদ্ধ, মোহিনীর এই পরিবারে আগমনের কারণ অশুভ শক্তির হাত থেকে তাদের উদ্ধার করা, এতেই কেটে গেল। এমনকী মোহিনীকে ত্রাতারূপী করে যে ফেমিনিস্ট দৃষ্টিকোণ আনার চেষ্টা করা হয়েছে, সেটাও বিশেষ ফলপ্রসু হয়নি।

এই ছবির কেন্দ্রচরিত্রে ইয়ামি গৌতম। অভিনেত্রী হিসেবে তিনি ভালো হলেও মোহিনীর চরিত্রে তঁার অভিনয় দুর্বল ও একঘেয়ে লাগে। বরং অনুরাগ ঠাকুর ও আদিনাথ কোঠারি তাঁদের চরিত্রে বেশ মানানসই। স্বল্প পরিসরে মিতা বশিষ্ঠ ও সুস্মিতা মুখোপাধ্যায় কিছু হাসির খোরাক যোগাতে সফল হয়েছেন। আসলে হিমাংশু শর্মার এই গল্প কেবল নামেই হরর কমেডি। গল্পের প্রথম তিরিশ মিনিট বাদ দিলে, এই ছবি ভীষণভাবে রাম-রাবণের যুদ্ধ, রামের ত্রাতা রূপে অবতরণ –এইসবেই বেশি মনযোগী। ফলে ১৩৫ মিনিটের ছবি বেশ ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে একটা সময়ে। সব মিলিয়ে ‘নয়ি নভেলি’ রামায়ণের ওপর একটি দায়সারা গোছের সংক্ষিপ্ত পাঠ হয়ে ওঠে যার কোনও প্রয়োজন ছিল না।
