দীর্ঘ বিরতির পর আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন দ্বীপ উন্মুক্ত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ ঘিরে ভ্রমণপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকদের নির্ধারিত নিয়ম মেনে ভ্রমণ করতে হবে।
সেন্টমার্টিনের নীল জলরাশি, প্রবালসমৃদ্ধ সৈকত ও সারি সারি নারকেলগাছ পর্যটকদের কাছে বরাবরই আকর্ষণীয়। ব্যস্ত জীবনের বাইরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে প্রতিবছর এই দ্বীপে ভিড় করেন দেশি-বিদেশি ভ্রমণপিপাসুরা। পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে দ্বীপে যাতায়াত ও অবস্থানের নিয়ম নিয়েও প্রস্তুতি চলছে।
তবে ২০২৬-২০২৭ পর্যটন মৌসুমে দ্বীপে পর্যটক প্রবেশের সময়সীমা, দৈনিক পর্যটকের সংখ্যা এবং জাহাজ ছাড়ার স্থান নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পর্যায়ে রয়েছে। ১২ অক্টোবর সচিবালয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, দ্বীপের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও যাতায়াত ব্যবস্থাপনা বিবেচনায় এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বর্তমানে প্রচলিত নির্দেশনা অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে পর্যটকেরা দিনের বেলায় দ্বীপে গিয়ে একই দিনে ফিরে আসতে পারবেন; রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকবে না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাত্রিযাপন করা যাবে। প্রতিদিন গড়ে সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটক যাতায়াত বন্ধ রাখার বিধান রয়েছে। তবে এসব নিয়ম পুনর্বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
দ্বীপে যাতায়াতের টিকিট কেনার ক্ষেত্রেও নির্ধারিত নিয়ম মানতে হবে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে ট্রাভেল পাস ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার সংকেতচিহ্নযুক্ত টিকিট সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ পলিথিন বহন না করা এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের নিজস্ব পানির পাত্র সঙ্গে রাখতে উৎসাহিত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কয়েকটি নিষেধাজ্ঞাও বহাল রয়েছে। রাতে সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ আয়োজন করা যাবে না। কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা কেনাবেচা এবং সৈকতে মোটরসাইকেলসহ অনুরূপ যানবাহন চালানোও নিষিদ্ধ। সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবালসহ দ্বীপের অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়, এমন কর্মকাণ্ড থেকেও বিরত থাকতে হবে।
পর্যটকদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা, জাহাজ চলাচলের সময়সূচি এবং রাত্রিযাপনের অনুমতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এমএ
