ফরিদপুরের মধুখালীতে বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত মাগুরার তিন শিক্ষার্থীর বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। সন্তানদের হারিয়ে দিশেহারা বাবা-মা ও স্বজনেরা। তাদের সান্ত্বনা দিতে এসে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না প্রতিবেশী ও সহপাঠীরাও।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) নিহতদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। প্রিয়জনের এমন অকালমৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।
নিহত তিন শিক্ষার্থী হলেন ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশের (ভিবিডি) মাগুরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রাব্বি মোল্যা (১৯), সংগঠনটির সদস্য নূর মোহাম্মদ আরিক (২২) ও তামান্না তাবাসসুম ঐশী (২৫)। তারা বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাগুরা জেলা শাখারও সদস্য ছিলেন।
নূর মোহাম্মদ আরিক মাগুরা সদর উপজেলার বারাশিয়া গ্রামের মো. হান্নান বিশ্বাসের ছেলে। রাব্বি মোল্যা একই উপজেলার মালিক গ্রামের মো. বাশারত মোল্লার ছেলে। তামান্না তাবাসসুম ঐশী মাগুরা পৌরসভার স্টেডিয়ামপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে মাগুরা থেকে সাত শিক্ষার্থী ফরিদপুরে একটি কর্মশালায় অংশ নিতে যান। কর্মশালা শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে মাগুরায় ফেরার পথে তারা দুর্ঘটনার শিকার হন। মাগুরা-ফরিদপুর মহাসড়কের মধুখালী উপজেলার আড়ুয়াকান্দি ব্রিজের পূর্ব পাশে মালেকা চক্ষু হাসপাতালের কাছে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা কিংফিশার পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এতে অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই এক নারীসহ তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। আহত হন আরও চারজন।
আহতদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবী সাগর, রিয়া ও জয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে জয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহত অ্যাম্বুলেন্সচালক মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মধুখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শামীম রেজা জানান, মাগুরা থেকে সাত শিক্ষার্থী ফরিদপুরে একটি কর্মশালায় অংশ নিতে গিয়েছিলেন। কর্মশালা শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে ফেরার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন।
দুর্ঘটনার খবর শুক্রবার দুপুরে মাগুরায় পৌঁছানোর পর থেকেই নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। রাতে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। শনিবারও নিহতদের বাড়িতে স্বজন, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় দেখা যায়।
পড়াশোনার পাশাপাশি তিন শিক্ষার্থীই বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে সহপাঠী, সহকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। কর্মশালায় অংশ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তিন তরুণের এমন মৃত্যুতে শোকাহত তাদের পরিবার ও মাগুরাবাসী।
