২০২৮-এ দু’বার দুর্গাপুজো?ছবি: iStock
Published on
:
2 min read
একবার নয়, পুরো দু’বার হবে দুর্গাপুজো। না, বাসন্তী পুজো আর শারদীয়া দুর্গাপুজোর কথা বলা হচ্ছে না। শরৎকালের অকাল বোধনই দু’বার হবে ২০২৮-এ। বঙ্গবাসীর জন্য এক অভিনব চমক অপেক্ষা করছে ২০২৮ সালে। পঞ্জিকার হিসেবে দেখা যাচ্ছে, ২০২৮-এ প্রায় ২০ দিনের ব্যবধানে দু’বার দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হবে।
এই বছর দুর্গাপুজোয় ছিল দু'টো সপ্তমী। পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৮-এও পুজোয় একটা অতিরিক্ত দিন পাওয়া যাবে। গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে আগামী বছর অষ্টমী থাকবে ২ দিন এবং বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে থাকবে দু’দিন নবমী। তবে আসল চমক অপেক্ষা করছে তার পরের বছর। ২০২৮-এ দৃক পঞ্জিকা এবং সূর্য সিদ্ধান্ত, এই দুই পঞ্জিকার হিসেব অনুযায়ী দুর্গাপুজোর মধ্যে ২০ দিনের তফাৎ থাকছে। তাই দুই পঞ্জিকা অনুসারে দু’বার পুজোর আয়োজন হবে।
দৃক পঞ্জিকার গণনা পদ্ধতি বাংলায় অনুসরণ করে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা। আর সূর্য সিদ্ধান্তের গণনা পদ্ধতি বাংলায় অনুসরণ করে গুপ্তপ্রেস ও বেণীমাধব শীলের পঞ্জিকা। এই দুই পঞ্জিকা অনুসারে ২০২৮ সালে দুর্গোৎসবের মধ্যে প্রায় তিন সপ্তাহের ব্যবধান থাকবে। দৃক পঞ্জিকা অনুসারে সেপ্টেম্বরে ২৩-২৪ তারিখে দুর্গাপুজো শুরু হবে। কিন্তু সূর্য সিদ্ধান্তের মতে ২০২৮-এ ১৭ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে পালিত হবে দুর্গাপুজো। দৃক পঞ্জিকা ও সূর্য সিদ্ধান্তের অ্যাপে ২০২৮-এর ক্যালেন্ডারে দুর্গাপুজোর এই তারিখই উল্লেখিত আছে। চিত্রশিল্পী হ্যালি গোস্বামী বিষয়টি নজর করে সামনে নিয়ে আসেন।
বেলুড় মঠ, ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ-সহ অধিকাংশ মঠ-মন্দিরের পুজো বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে হয়। তাই বেশিরভাগ মঠ-মন্দিরের পুজো সেপ্টেম্বরে কুড়ির কোঠায় হয়ে যাবে। আর প্রায় সমস্ত বনেদি বাড়ি এবং বারোয়ারির পুজো গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুসারে অক্টোবরের মাঝামাঝি হবে। অর্থাৎ গুপ্তপ্রেস অনুসারে যে দিন মহালয়া, বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত অনুসারে সে দিন কালীপুজো। মাঝে মলমাস পড়ে যাওয়ায় দুই পঞ্জিকার হিসেবে এত দিনের পার্থক্য হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সর্বভারতীয় প্রাচ্য বিদ্যা অকাদেমির অধ্যক্ষ ড. জয়ন্ত কুশারী জানাচ্ছেন, ১৯৮০-র দশকে এই ঘটনা একবার ঘটেছিল। সেই সময় যে দিন গুপ্ত প্রেস মতে দুর্গাপুজোর সপ্তমী, সে দিন বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে জগদ্ধাত্রী পুজোর সপ্তমী পড়েছিল। দুই পঞ্জিকার গণনা পদ্ধতির ফারাকে এমনটা কখনও কখনও হয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও বলেছেন, মল মাস পড়ে যাওয়ার কারণে পুজো পিছিয়ে যায়।
এমনই পুজো চাক্ষুস করেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সঞ্জীব রায়। আলিপুরে তাঁর নিজের বাড়িতে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে দুর্গাপুজো হয় এবং তার দিন ২০ পরে হয়েছিল গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে দুর্গাপুজো। পুজোর আনন্দ সে বার দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল বলে জানান তিনি।
এর আগে ২০২০ সালে মহালয়ার এক মাস পরে দুর্গাপুজো হয়েছিল। সে বার মহালয়া ছিল ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ এবং মহাষষ্ঠী হয়েছিল প্রায় ৩৫ দিন পরে ২২ অক্টোবর ২০২০। পঞ্জিকা অনুসারে আশ্বিন মাসটি ‘মলমাস’ বা অধিক মাস (একটি চন্দ্রমাসে দুটি অমাবস্যা পড়া) হওয়ায় পুজো এক মাস পিছিয়ে যায়।
