দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ১০:১০ পিএম
প্রায় দেড়শ বছরের অধিক সময় জুড়ে নিতাইগঞ্জ দূর্গা মণ্ডপে পূজার আয়োজন করে আসছে। বর্তমানে পূজাটি নিতাইগঞ্জের ব্যবসায়ী হিমু সাহার গোডাউনেই আয়োজন করা হয়। নিতাইগঞ্জ সার্বজনীন দূর্গাপূজা মণ্ডপ কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন পরিতোষ কান্তি সাহা ও সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্বে আছেন পরিতোষ কুমার সাহা।
এবারে আয়োজন এই মণ্ডপটিতে একটি পরিবারে কন্যা শিশুর জন্ম নেওয়া থেকে শুরু করে বাবার হাত ধরে হাঁটতে শেখা, স্কুলে যাওয়া, বড় হওয়া এবং একটি নিদিষ্ট সময়ে সাতপাকে বাঁধা পড়ে স্বামীর গৃহে চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে একজন বাবার কন্যাদানের বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
সেই সাথে মণ্ডরে সাজসজ্জার প্রাচীন বাংলা এবং সনাতন ধর্মের ঐতিহ্যকে উপস্থাপন করা হয়েছে। মণ্ডপটি সাজানো হয়েছে বাঁশের তৈরি কুলা, চালন, হিন্দুদের বর ও বধূর মাথার মুকুট, শাখা, সিধুঁর সহ বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে। যা প্রাচীন গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য সহ সনাতন ধর্মের বার্তা বহন করে।
নিতাইগঞ্জ সার্বজনীন পূজা মণ্ডপ কমিটির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক জয় জানান, আমরা এবার কন্যাদান থিম দিয়ে আমাদের মণ্ডপ সাজিয়েছি। কারণ আমাদের হিন্দু পরিবার গুলোতে কন্যা সন্তানকে দেবী রূপেই দেখা হয়। আমরা তাদেরকে ঘরের লক্ষ্মী হিসেবে মনে করি। সেই বিষয়টি ফুটিয়ে তুলতেই, একজন কন্যা সন্তানের তার পরিবারের কতটুকু অবদান থাকে, বাবা মায়ের কতটা কষ্ট ও ত্যাগ থাকে সেটিই দেখানোর চেষ্টা করেছি। একটি কন্যাকে জন্ম হওয়া থেকে বড় করে কন্যা দানের মধ্য দিয়ে আরেকটি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার যে জার্নিটা সেটা আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি সকলের ভাল লাগবে, আপনাদের মাধ্যমে আমাদের মণ্ডপে পূজা দেখতে আসার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান রইলো।
নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, আপাতত দৃষ্টিতে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা দেখছেন না। দেশের অন্যান্য জায়গাতে কোথায় কি হয় সেটি বলতে পারবো না। কিন্তু আমাদের নারায়ণগঞ্জে সব সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় ছিলো। দূর্গা বা অন্যান্য পূজাতে কখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়নি। আমাদের নারায়ণগঞ্জে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকলের মাঝে একটি ভ্রাতৃত্বপূর্ন সম্পর্ক রয়েছে এটি থাকবে।
