অবশেষে নিশ্চিত হচ্ছে ৮ গ্রামবাসীর পারাপার
কক্সবাজারের পেকুয়া ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সীমান্তবর্তী লাখো মানুষের কয়েক দশকের লালিত স্বপ্ন অবশেষে সত্যি হতে যাচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলের ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ ও শিক্ষার্থীদের নিত্যদিনের সংগ্রামের অবসান ঘটিয়ে জলকদর খালের ভাঙাখালী পয়েন্টে নির্মিত হতে যাচ্ছে একটি স্থায়ী পাকা সেতু। এলাকার সর্বস্তরের মানুষের দীর্ঘদিনের তীব্র দাবির প্রেক্ষিতে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বিশেষ আগ্রহ ও একক প্রচেষ্টায় এই মেগা প্রকল্পের অনুমোদন ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত গতি পেয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ডিও (ডিম্যান্ড অব অর্ডার) লেটার ও সরাসরি হস্তক্ষেপে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দ্রুততম সময়ে সেতুটি নির্মাণের দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করায় দুই উপজেলার ৮টি গ্রামের মানুষের মাঝে খুশির জোয়ার বইছে। উল্লেখ্য, ১৫০ ফুট প্রশস্ত এই জলকদর খালের কারণে বাঁশখালীর দুর্গম ছনুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা পেকুয়ার রাজাখালীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। ছনুয়া কাদেরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় ছনুয়ার মৌলভীপাড়া, আমিন শরীফপাড়া, কবির সিকদারপাড়া, টেকপাড়া, ইসমাইলপাড়া, বাঁচা মিয়ার পাড়া, খোরশেদ আলী চৌধুরীপাড়া, ছালেহ আহমদ সিকদারপাড়া ও ছেলবন এলাকার অন্তত ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন ছোট নৌকায় এই খাল পার হতে বাধ্য হয়। গত জুন মাসে লবণের ট্রলারের ধাক্কায় স্থানীয়দের তৈরি একটি বাঁশের সাঁকো ভেঙে যাওয়ার পর কোমলমতি শিশুদের যাতায়াত নরকযন্ত্রণায় পরিণত হয়। বর্ষা মৌসুমে কাদার কারণে শিক্ষার্থীদের দুই সেট পোশাক সাথে নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হতো। কাদার কারণে বহু শিক্ষার্থীর বই-খাতা নষ্ট হয়েছে এবং নৌকা থেকে পড়ে গিয়ে অতীতে এক শিক্ষার্থী স্রোতে ভেসে যাওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের এই অবর্ণনীয় কষ্ট এবং রাজাখালীর আরবশাহ বাজারে ছনূয়াবাসীর নিত্যদিনের সদাই ও চাষাবাদজনিত পারাপারের দুর্ভোগের বিষয়টি স্থানীয় নেতৃবৃন্দ মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দৃষ্টিগোচর করেন। তিনি বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এলজিইডি-কে (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) দ্রুততম সময়ে একটি পাকা সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও প্রশাসনিক অনুমোদনের বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই যুগান্তকারী ও দ্রুত পদক্ষেপের ফলে দীর্ঘ ৩০ বছর পর এই অবহেলিত জনপদে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু আলোর মুখ দেখছে। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়ার রাজাখালী ও বাঁশখালীর ছনুয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এর ফলে লবণ শিল্প, চিংড়ি ঘের ও মৎস্য চাষসহ উপকূলীয় অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক চিত্র পুরোপুরি বদলে যাবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও স্থানীয় সুধী সমাজ।
