ছবির ক্যাপশন: .
আসিফ চৌধুরী, বিশেষ সংবাদদাতা :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটকেন্দ্র দখল ও সহিংসতার ষড়যন্ত্র চলছে—এমন অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা-২ (কেরানীগঞ্জ) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও ডাকসুর সাবেক ভিপি ও সাবেক মন্ত্রী জনাব আমান উল্লাহ আমান।তিনি বলেছেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন হবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার নির্বাচন।
আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানার তারানগর ইউনিয়নে বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। একই অনুষ্ঠানে তিনি তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।
আমান উল্লাহ আমান অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনে পরিকল্পিতভাবে ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার ছিনতাই এবং সহিংসতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে। তাঁর ভাষ্য, ঢাকা-২ আসনের ১৪১টি ভোটকেন্দ্রে বহিরাগতদের ব্যবহার করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে বোমা ও অস্ত্র মজুদ করা হয়েছে—এমন অভিযোগে সাভার ও কেরানীগঞ্জ এলাকায় যৌথ বাহিনী ইতিমধ্যে কয়েকজনকে আটক করেছে। এসব ঘটনা একটি গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত বহন করে বলে দাবি করেন তিনি।
আমান উল্লাহ আমান বলেন, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আমাদের বহু নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন। জুলাই আন্দোলনে রিয়াজ, আবু সাঈদ, ওয়াসিমরা শহীদ হয়েছে।
ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপির বহু নেতাকর্মী অতীতে প্রাণ দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়েও রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তাঁর দাবি, আজও একই শক্তি জনগণের ভোটাধিকার হরণে সক্রিয় রয়েছে।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর সময়ে বাবুবাজার–জিনজিরা সেতু নির্মাণসহ বুড়িগঙ্গার ওপর একাধিক সেতু স্থাপন করা হয়, যার ফলে কেরানীগঞ্জের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর আমলে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৮টি কলেজ ও ১৫টি উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে বলে তিনি জানান।
নির্বাচনী ইশতেহারে আমান উল্লাহ আমান কেরানীগঞ্জকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় কেরানীগঞ্জের খাল দখল ও ভরাটের কারণে যে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে দখলমুক্ত করে পুনরায় খনন কার্যক্রম চালানো হবে।
নির্বাচিত হলে ঢাকা-২ আসনকে মাদক, সন্ত্রাস, ভূমি দখল ও চাঁদাবাজমুক্ত করার ঘোষণা দেন তিনি। পাশাপাশি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দুঃস্থদের খাদ্যসহায়তা, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং খেলাধুলার মাঠ তৈরির অঙ্গীকার করেন।
এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান, সাংবাদিকদের জন্য আবাসন প্লট, ধর্মীয় নেতা—ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব ও হিন্দু পুরোহিতদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতার ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আমান উল্লাহ আমান বলেন, কমিশনকে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে এবং যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান, ভোটাররা যেন ভয়ভীতি ও চাপমুক্তভাবে ভোট দিতে পারেন এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি, কেরানীগঞ্জ মডেল থানা বিএনপির সভাপতি শামীম হাসান, সাধারণ সম্পাদক হাসমত উল্লাহ নবীসহ সিনিয়র জন্য সম্পাদক মোঃ মনিরুল হক মনির।
