মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। তাদের আবেদন, জ্ঞানেশকে অপসারণ করা হোক। সাংসদ দোলা সেনের করা মামলায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পাশাপাশি যুক্ত করা হয়েছে দুই কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশীকেও। আগামী সপ্তাহে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা।
এর আগেও জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে। নেপথ্যে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদন। তাতে দাবি করা হয়, গত ১০ মাসে ১৪ বার দুই কমিশনার বিবেক এবং সুখবীর লিখিত ভাবে কমিশনের নামে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও জারি করা নির্দেশ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। গত মাসে এক আইনজীবী সেই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা করে আর্জি জানিয়েছিলেন, দুই সহকর্মীকে উপেক্ষা করে জ্ঞানেশ একক ভাবে যে সমস্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যে গাইডলাইন জারি বা সফ্টওয়্যারের সংশোধন করা হয়েছে, সেগুলিকে অসাংবিধানিক এবং বাতিল ঘোষণা করা হোক। পুরনো ফর্ম-৬ ফেরানোর দাবিও জানিয়েছেন মামলাকারী। এই ফর্মের মাধ্যমে নতুন ভোটারেরা ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম নথিভুক্ত করান। অভিযোগ, এসআইআর পর্বে ওই ফর্মে নতুন প্রশ্ন যোগ করা হয়েছে। বিধি সংশোধন না করে ফর্ম-৬-এ কোনও পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, দাবি বিরোধীদের। অবশ্য সেপ্টেম্বরের শেষে নির্বাচন কমিশন ওই ফর্মে বদল এনেছে। যে ১৩ রাজ্যে এসআইআর সম্পন্ন হয়েছে, সেখানে ফর্ম-৬-এ আবেদনকারীকে এসআইআর সংক্রান্ত তথ্য দিতে হচ্ছে না।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর জ্ঞানেশের পদত্যাগ, এমনকি গ্রেফতারের দাবিও তুলেছে বিরোধী শিবির। তাঁর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। জ্ঞানেশকে সরাতে ফের সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে চলেছে বিরোধী শিবির। বৃহস্পতিবার এ প্রসঙ্গে সম্ভাব্য পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বলেন, ‘‘ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সাংবিধানিক পদ্ধতি রয়েছে। সংসদে প্রস্তাব জমা পড়লে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে।’’
এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে এসআইআর প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতদুষ্ট কার্যকলাপের অভিযোগে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে অপসারণের প্রস্তাব আনা হয়েছিল লোকসভা এবং রাজ্যসভায়। কিন্তু লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণণ বিরোধী সাংসদদের আনা সেই ইমপিচমেন্ট নোটিস ‘বিচার (তদন্ত) আইন, ১৯৬৮’ এবং সংবিধানের ৩২৪(৫) ধারা অনুযায়ী খতিয়ে দেখার পরে খারিজ করে দিয়েছিলেন।
