কুমিল্লার লালমাইয়ে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির একটি অবৈধ কারখানার সন্ধান মিলেছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বেলঘর ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রামে অভিযান চালিয়ে এই কারখানাটির সন্ধান পায় এসআরবি।
টানা দুই ঘণ্টার এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ সংশ্লিষ্ট একজনকে আটক করা হয়েছে।
এসআরবি-১১, সিপিসি-২ ইউনিট সূত্রে জানা যায়, ইছাপুরা গ্রামে একটি গোপন আস্তানায় অস্ত্র তৈরির কাজ চলছে— এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কারখানাটিকে নজরদারির আওতায় আনা হয়। পরে রাত ৮টার দিকে সবকিছু নিশ্চিত হয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ১৬টি ছোট-বড় চাপাতি ও রামদা, ২টি বড় রামদা, ১টি সম্পূর্ণ ও ১টি অর্ধনির্মিত এয়ারগান, ১ বাক্স কার্তুজ, ১টি কাটার মেশিন, ১টি ড্রিল মেশিনসহ অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
এসআরবির প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই কারখানায় অস্ত্র তৈরি করে আসছিল একটি চক্র। এসব অস্ত্র কিশোর গ্যাং, ডাকাত দলসহ বিভিন্ন অপরাধী চক্রের কাছে বিক্রি করা হতো, যা দিয়ে এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো।
এসআরবি জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এসব অস্ত্র কেনাবেচা করা হতো। সম্প্রতি এসআরবির গোয়েন্দা ইউনিট অনলাইনে অস্ত্র বিক্রির তথ্য-উপাত্ত উদ্ঘাটন করার পর কারখানাটি নজরদারিতে আনে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা এসআরবির অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়। এরপর অস্ত্র ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন পেজ নজরদারির আওতায় এনে গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে ওই অস্ত্র তৈরির কারখানাটি খুঁজে বের করা হয়।