বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আড়াই মাসের মাথায় আবারও দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক সোহেল। সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপির সিদ্ধান্তে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এজমল হোসেন পাইলটও বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর আবারও সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ ওঠায় মোজাম্মেল হক সোহেলের বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তার কোনো কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না। যুবদলের নেতা-কর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে নেত্রকোণা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. আনোয়ারুল হক বারহাট্টা উপজেলা সদরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান। এ সময় অর্চনা রানী দাস নামে এক বিধবা নারী তার পায়ে পড়ে কান্নাকাটি করে মোজাম্মেল হক সোহেলের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেন। অর্চনা সোহেলের প্রতিবেশী। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরই সোহেলের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আসে।
এর আগে গত ৪ জুলাই বাবা-মাকে মারধরের অভিযোগে মোজাম্মেল হক সোহেলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে সুপারিশসহ বিভিন্নভাবে তদবিরের পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ জুলাই তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোজাম্মেল হক সোহেল। তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন তিনি। সোহেল বলেন, ‘আগেরবারও প্রতিপক্ষ আমাকে ফাঁসিয়েছিল। আমি বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। জমি লিখে দেয়ার জন্য মারধরের কী দরকার? তাদের সবকিছুই তো আমার। আমার বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত এবং নিয়মিত কেমোথেরাপি নিচ্ছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে নিজের অজান্তে হয়তো কিছু বলেছেন, যা প্রতিপক্ষ বাড়িয়ে প্রচার করেছে।’
অর্চনা রানী দাসের পরিবারের সঙ্গে বিরোধের বিষয়ে সোহেল বলেন, ‘প্রতিবেশী অর্চনা রানীর ভাবীকে সাত বছর আগে এক লাখ টাকা ধার দিয়েছিলাম। সেই টাকা ফেরত দেয়নি। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে কিছু তর্কবিতর্ক হয়েছে। প্রতিপক্ষের লোকজন ওই নারীকে প্ররোচনা দিয়ে এমপি মহোদয়ের কাছে হাজির করে মারধরের মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করিয়েছে। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।’
মোজাম্মেল হক সোহেল বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে।
