ক্যানসার কখনওই এক অঙ্গে বাঁধা থাকে না। তার স্বভাবই হল বিভাজিত হয়ে সংখ্যায় বাড়তে থাকা এবং ধীরে ধীরে সারা শরীরের সুস্থ কোষগুলিকে নষ্ট করে ফেলা। এই প্রক্রিয়াকেই বলে ‘মেটাস্ট্যাসিস’, যা যে কোনও ক্যানসারের ক্ষেত্রেই দেখা যায়। সে কারণেই চিকিৎসকেরা বলেন, ক্যানসার গোড়ায় ধরা পড়লে তার নিরাময়ের উপায় আছে, কিন্তু ক্যানসার ‘স্টেজ ৩’ বা ‘স্টেজ ৪’-এ পৌঁছে যাওয়া মানে রোগীর জীবনের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু ক্যানসার যে ছড়াচ্ছে, তা নির্দিষ্ট কিছু জিনগত পরীক্ষা ছাড়া বোঝার তেমন উপায় নেই। তাই বিপদ এড়ানোও প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। এই সমস্যার সমাধানেই টিকা আসছে। আমেরিকার ওষুধ ও টিকা প্রস্তুতকারক সংস্থা মডার্না এমন প্রতিষেধক তৈরি করছে, যা ক্যানসারের ছড়িয়ে পড়া আটকাতে পারবে।
কী ভাবে হয় ক্যানসারের ‘মেটাস্ট্যাসিস’?
এই প্রক্রিয়ায় ক্যানসার কোষ বিভাজিত হয়ে সংখ্যায় বাড়তে থাকে এবং তা বিভিন্ন মাধ্যমকে আশ্রয় করে এক অঙ্গ থেকে অন্য অঙ্গে ছড়াতে শুরু করে। কী কী সেই মাধ্যম? চিকিৎসকেরা বলছেন, প্রথমত রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে ক্যানসার দ্রুত ছড়াতে পারে। কোষগুলি রক্তনালিতে প্রবেশ করে ও বাহিত হয়ে অন্য অঙ্গে গিয়ে পৌঁছোয়।
লসিকাতন্ত্রের মাধ্যমেও ক্যানসার কোষ ছড়াতে পারে। যেমন, লসিকা-বাহিত হয়ে ফুসফুস, লিভার, মস্তিষ্ক বা হাড়ে গিয়ে সেঁধিয়ে যায় ক্যানসার। তার পর সেই অঙ্গে বাড়তে শুরু করে।
ম্যালিগন্যান্ট টিউমার (ক্যানসার সৃষ্টিকারী) তার আশপাশের কোষের মাধ্যমেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে অন্ত্র, লিভার, জরায়ুতেও ক্যানসার কোষ গিয়ে জমা হতে থাকে ও সেখানে বিভাজিত হয়ে সংখ্যায় বাড়তে থাকে।
মডার্না যে টিকা তৈরি করেছে, তা ‘এমআরএনএ’ প্রযুক্তিতে তৈরি হয়েছে। এই টিকার কাজ হল ক্যানসার কোষে তৈরি হওয়া নিয়োঅ্যান্টিজেন প্রোটিনকে নষ্ট করে দেওয়া। এই প্রোটিনের কারণেই ক্যানসার কোষ পরিবর্তি হতে থাকে এবং এক অঙ্গ থেকে অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। টিকাটি এই প্রোটিনকে নষ্ট তো করেই, ভবিষ্যতে এমন কোনও প্রোটিনের উপস্থিতি শরীরে ঘটলে তাকে ঠেকানোর আগাম ব্যবস্থা করে রাখে। টিকাটির তৃতীয় পর্বের ট্রায়াল চলছে। খুব তাড়াতাড়ি সেটি বাজারে আসবে বলে দাবি করা হয়েছে।
