নারী ও কন্যাশিশুকে পিছিয়ে রেখে কোনো সমাজ বা জাতির উন্নতি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর শিশু একাডেমিতে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, কার্যকর বিচার এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি।
কন্যাশিশু কোনো বোঝা নয়, এটি একটি অফুরন্ত সম্ভাবনার সূচনা মন্তব্য করে রাষ্ট্রপ্রধান কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাল্যবিয়ে রোধ এবং সমাজে তাদের সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘কন্যাশিশুর নিরাপত্তায় বিদ্যালয়, সামাজিক মাধ্যমসহ সব ক্ষেত্রে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ঘটনায় দ্রুত বিচার এবং জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।’
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘শিশুবিয়ে রোধে দারিদ্র্য দূরীকরণ, অবৈতনিক শিক্ষা, উপবৃত্তি ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের পাশাপাশি জন্মনিবন্ধন যাচাই এবং কন্যাশিশুর উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করছে সরকার।’
কুমিল্লার স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যার বিষয়টি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা এগিয়ে গেলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছি। সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখা অভিভাবকদের দায়িত্ব। কুমিল্লার মেয়েটা তিনদিন বাসায় নাই, অভিভাবকদের মধ্যে কোনো উদ্বেগ দেখা যায়নি।’
অভিভবাকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখা অভিভাবকদের দায়িত্ব। কন্যাশিশুর শিক্ষা কোনো দয়া নয়- এটি তার মৌলিক অধিকার, আর তার নিরাপত্তা বজায় রাখা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।
একটি কন্যাশিশুর জন্মকে একটি নতুন স্বপ্ন, আগামী দিনের সম্ভাবনা এবং একজন গর্বিত নাগরিকের জন্ম হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এক ডানায় ভর করে যেমন কোনো পাখি উড়তে পারে না, তেমনই নারী ও কন্যাশিশুকে পিছিয়ে রেখে কোনো সমাজ বা জাতি উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে না।’
অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট সচিব এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
