সামনের পূজার লম্বা ছুটির হাতছানি। আর লম্বা ছুটির ঘণ্টা বাজলেই ব্যস্ত শহরের কোলাহল ছেড়ে দূর-দূরান্তে ছুটে যান হাজারো বাইকার। কারো গন্তব্য গ্রামের চিরচেনা নীড়, আবার কেউবা থ্রিল আর রোমাঞ্চের খোঁজে মোটরসাইকেল হাঁকিয়ে ছোটেন পাহাড় কিংবা সমুদ্রের পানে। কিন্তু দূরপাল্লার এই আনন্দযাত্রায় ছোট একটি ভুল বা অসাবধানতাই মুহূর্তের মধ্যে আনন্দের দিনগুলোকে বিষাদে পরিণত করতে পারে।
হাইওয়ের মাইলের পর মাইল পিচঢালা পথ অতিক্রম করা, দ্রুতগতি এবং বড় বড় বাসের চাপ সামলে নিরাপদ রাইড সম্পন্ন করতে প্রয়োজন বাড়তি প্রস্তুতি। আপনার ছুটির ভ্রমণকে আনন্দদায়ক ও চিন্তামুক্ত রাখতে যে ভুলগুলো ভুল করেও করা যাবে না…
গতি নিয়ন্ত্রণে অবহেলা করা
উৎসাহের বশে বা দ্রুত পৌঁছানোর তাগিদে হাইওয়েতে অনেকে অতিরিক্ত গতিতে বাইক চালান। উচ্চ গতি সাময়িক রোমাঞ্চ দিলেও তা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সবসময় গতিসীমা মেনে বাইক চালান। মনে রাখবেন, ছুটির সময়ে মহাসড়কে স্পিড গান নিয়ে ট্রাফিক পুলিশের কঠোর নজরদারি থাকে, তাই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকুন।
সঠিক সেফটি গিয়ার ব্যবহার না করা
মানসম্মত ও সার্টিফায়েড হেলমেট ছাড়া লং রাইডে যাওয়া মারাত্মক ভুল। হেলমেটের পাশাপাশি ভালো মানের রাইডিং জ্যাকেট, গ্লাভস, নি-গার্ড ও বুট ব্যবহার করুন। এসব সুরক্ষা সরঞ্জাম যেকোনো অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনায় শরীরের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি কমায়।
হঠাৎ লেন পরিবর্তন ও বড় গাড়ি ওভারটেক
হাইওয়েতে বাস ও ট্রাকের মতো বড় গাড়ির পাশে হুটহাট লেন পরিবর্তন করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। সবসময় নিজের লেনে বাইক রাখুন। ওভারটেক করার প্রয়োজন হলে পর্যাপ্ত জায়গা ও সঠিক সিগন্যাল দিয়ে নিরাপদে বড় গাড়িকে পার হোন।
যাত্রার আগে বাইক চেকআপ না করা
লম্বা যাত্রায় বের হওয়ার আগে বাইকের ব্রেক, টায়ারের গ্রিপ ও প্রেশার, হেডলাইট-ইন্ডিকেটর এবং ইঞ্জিন অয়েল ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি। যাত্রাপথে এসব ছোটখাটো যন্ত্রাংশের ত্রুটি পুরো ভ্রমণটাই মাটি করে দিতে পারে।
বিরতি না নিয়ে একটানা বাইক চালানো
একটানা বাইক চালালে শরীর ও মন দুটোই ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং মনোযোগ কমে যায়। তাই প্রতি ১ থেকে ২ ঘণ্টা পর পর বিরতি নিন। প্রচুর পানি ও প্রয়োজনে স্যালাইন পান করে শরীর হাইড্রেটেড রাখুন। কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে পুনরায় যাত্রা শুরু করার পরপরই হুট করে বাইকের গতি বাড়াবেন না।
অতিরিক্ত মালামাল বা যাত্রী বহন
ভারী ব্যাগ বা অতিরিক্ত মালামাল বাইকের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। তাই লং রাইডে যথাসম্ভব কম ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সাথে রাখুন। মোটরসাইকেলে অতিরিক্ত যাত্রী, বিশেষ করে শিশু ও নারী বহনে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন; সম্ভব হলে দূরপাল্লার যাত্রায় তা এড়িয়ে চলাই ভালো।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস না নেওয়া
লং রাইডে বের হওয়ার আগে যাত্রাপথের আবহাওয়া কেমন থাকবে তা জেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলে সাথে ভালো মানের রেইনকোট রাখুন। বৃষ্টি শুরু হলে বাইকের গতি কমিয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে রাইড করুন।
টিপস: দূরপাল্লার যাত্রায় ‘একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না’ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই তাড়াহুড়ো না করে নিয়ম মেনে সতর্কভাবে রাইড করুন; যেন প্রিয়জনদের কাছে পৌঁছানোর প্রতিটি মুহূর্তই সুরক্ষিত ও আনন্দময় থাকে।
