সাকিবুল হাছান
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের অধ্যাদেশ দ্রুত জারির দাবিতে আজ মঙ্গলবার রাজপথে নেমেছে রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব মোড়ে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছেন। তাদের দাবি, সাত কলেজকে নিয়ে গঠিত প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’র নাম ও কাঠামো অনুযায়ী দ্রুত রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে অধ্যাদেশ প্রকাশ করতে হবে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ‘৭ কলেজ’ নামে চলা কাঠামো তাদের পরিচয়ের সংকটে ফেলেছে এবং ‘অধিভুক্তি’ শব্দটি তাদের কাছে অবমাননাকর ও বৈষম্যমূলক মনে হয়। তাই আলাদা পরিচয়ের স্বীকৃতির জন্য এই অধ্যাদেশ অতি জরুরি। তারা মনে করেন, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি শুধু একটি নাম নয়-এটি তাদের আত্মপরিচয়ের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতীক।
সরকার জানিয়েছে, অধ্যাদেশ কার্যকর হবে পাঁচটি ধাপে: প্রথমে ইউজিসি খসড়া তৈরি করবে, এরপর সেটি যাবে আইন মন্ত্রণালয়ে। সেখান থেকে সংশোধন হয়ে তা আবার ইউজিসিতে ফিরে আসবে। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় হয়ে সেটি উপদেষ্টা পরিষদে যাবে এবং শেষে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে গেজেট আকারে প্রকাশিত হবে। শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা, যদিও প্রাথমিক ধাপে তেমন জটিলতা নেই, পরবর্তী ধাপগুলোতে সময়ক্ষেপণের ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে আইন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘসূত্রতা অধ্যাদেশ জারিতে বিলম্ব ঘটাতে পারে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অধ্যাদেশ কার্যকর করার দাবিতে তারা আজ রাজপথে নেমেছেন।
২০২৫ সালের ২৬ মার্চ সাতটি সরকারি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা করে নতুন একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ইউজিসি নতুন প্রতিষ্ঠানের নাম নির্ধারণ করেছে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’। এই সাতটি কলেজ হলো: ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ,বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, মিরপুর বাঙলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ।
