Published on
:
2 min read
উত্তরপ্রদেশের মিরাটে ‘নীল ড্রাম’ হত্যাকাণ্ডের মামলায় বুধবার সাজা ঘোষণা করেছিল জেলা ও দায়রা আদালত। সেই মিরাটেরই আরও এক রোমহর্ষক খুনের ঘটনায় হইচই পড়ে গিয়েছিল গোটা দেশে। স্বামীকে শ্বাসরোধ করে খুনের পরে সাপের কামড়ে মৃত্যু বলে চালানোর চেষ্টা করেছিলেন স্ত্রী ও তার প্রেমিক। এই খুনের মামলায় ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার, অভিযুক্ত স্ত্রী রবিতা ও তার প্রেমিক অমরদীপকে মৃত্যুদণ্ড দিল আদালত।
এক নজরে
ঘটনাস্থল: আকবরপুর সাদাত গ্রাম, মিরাট, উত্তরপ্রদেশ।
মৃত ব্যক্তি: অমিত কাশ্যপ ওরফে মিক্কি।
মৃত্যুর তারিখ: ১২ এপ্রিল, ২০২৫।
অভিযুক্ত: অমিতের স্ত্রী রবিতা ও তাঁর প্রতিবেশী অমরদীপ।
খুনের পদ্ধতি: শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ।
উত্তরপ্রদেশের মিরাটের আকবরপুর সাদাত গ্রামের বাসিন্দা অমিত কাশ্যপের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এই মামলার সূত্রপাত। ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল অমিতের নিজের বাড়িতে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকেই একটি সাপ উদ্ধার হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের প্রথমে ধারণা হয়েছিল, সাপের কামড়েই অমিতের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু পুলিশের তদন্তে সামনে আসে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য।
অমিতের দেহের ময়নাতদন্ত করে জানা যায়, তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছিল। অমিতের গায়ে যে ক্ষতের দাগ ছিল, সেটা করা হয়েছিল সাপের কামড়ে মৃত্যু হয়েছে, তা দেখানোর জন্য।
পুলিশি তদন্তে আরও জানা যায়, অমিতের স্ত্রী রবিতা এবং তাঁর প্রতিবেশী অমরদীপের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। তাঁদের সেই সম্পর্কের কথা অমিত জেনে ফেলেছিলেন বলেই তাঁকে খুনের ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। রবিতা ও অমরদীপের ফোন কলের বেশ কিছু তথ্য এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়। সরকারি আইনজীবী জানান, অমিতের অমিতের মৃত্যুর পরে চার দিনে রবিতা ও অমরদীপের মধ্যে ৭০ বারেরও বেশি কথা হয়েছিল। তদন্তে ব্যবহৃত একটি ফোন নম্বর থেকে তাঁদের মধ্যে ৫০০-র বেশি কলের তথ্যও সামনে আসে। আদালত দু’জনকেই খুন ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে।
গত ৭ অক্টোবর মিরাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক রবিতা ও অমরদীপকে খুন এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। শুক্রবার দু’জনকেই মৃত্যুদণ্ড শোনায় আদালত। পুলিশের তরফে পরিকল্পিত খুন এবং অপরাধের প্রমাণ আড়াল করার চেষ্টার বিষয়টি তুলে ধরে সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করা হয়েছিল। অমিতের পরিবারের আইনজীবীরাও দু’জনের মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান। শেষ পর্যন্ত আদালত তাঁদের সেই সাজাই দিয়েছে।
FAQ
১. মিরাটের সাপের কামড়ে মৃত্যু মামলায় কাদের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে?
অমিত কাশ্যপ খুনের মামলায় তাঁর স্ত্রী রবিতা এবং রবিতার প্রতিবেশী অমরদীপকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
২. অমিত কাশ্যপের কীভাবে মৃত্যু হয়েছিল?
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, সাপের কামড়ে নয়, শ্বাসরোধের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।
৩. কেন দেহের নিচে সাপ রাখা হয়েছিল?
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, খুনের ঘটনাকে সাপের কামড়ে মৃত্যু বলে দেখিয়ে তদন্তকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে দেহের নিচে সাপ রাখা হয়েছিল।
৪. এই মামলায় কোন প্রমাণগুলি গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, অভিযুক্তদের ফোনে যোগাযোগের তথ্য এবং সাক্ষীদের বক্তব্য মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
৫. আদালত কবে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করে?
২০২৬ সালের ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার, মিরাটের অতিরিক্ত জেলা বিচারক-১২-এর আদালত রবিতা ও অমরদীপকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
