সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি সামগ্রিক পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. শিমুল তালুকদার। গত কয়েক মাস ধরে তিনি শুধু প্রশাসনিক নির্দেশ দিয়েই ক্ষ্যান্ত হননি, বরং নিজেই ঝাড়ু হাতে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, দেওয়াল ও টয়লেটের বেসিন পরিষ্কার করে অনুকরণীয় ভূমিকা পালন করে চলেছেন। তার এমন ব্যতিক্রমী ও জনবান্ধব উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী এই সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও দুর্গন্ধের চিত্র পাল্টে গিয়ে এক স্বস্তিদায়ক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে ৪২ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ থাকলেও বর্তমানে মাত্র ১৭ জন কর্মী কর্মরত রয়েছেন। তীব্র জনবল সংকটের কারণে কর্মরতদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ থাকা সত্ত্বেও ডা. শিমুল তালুকদার প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও বিকেলে নিয়মিত নিজে উপস্থিত থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন ও তদারকি করেন। কোথাও ময়লা-আবর্জনা বা অবহেলা দেখতে পেলে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ডেকে পরম যত্নে কাজ বুঝিয়ে দেন এবং প্রয়োজনে নিজেই কাজে নেমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তার এই আন্তরিক ও মানবিক আচরণে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মধ্যে কাজের আগ্রহ ও উদ্দীপনা বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা হাসপাতালের সামগ্রিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখছে।
দীর্ঘদিন ধরে সেবামূলক এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত পরিচ্ছন্নতাকর্মী পারুল রানী জানান, তিনি ২৬ বছর ধরে এখানে কাজ করছেন, তবে বর্তমান আরএমও স্যারের মতো এমন আন্তরিক ও মায়াবী তদারকি তিনি এর আগে দেখেননি। তার মিষ্টি ব্যবহার ও অনুপ্রেরণায় তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কঠিন কাজগুলোও হাসিমুখে সম্পন্ন করছেন। আরেক কর্মী জয়রাম বাসফর জানান, কাজের মান নিখুঁত করতে স্যার নিজেই মাঝে মাঝে ঝাড়ু হাতে তুলে নেন, যা তাদের দায়িত্ববোধকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সহকারী ওয়ার্ড মাস্টার মো. সেলিম যোগ করেন, গত তিন মাস ধরে একটি সুশৃঙ্খল দলগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে হাসপাতালটিকে আগের তুলনায় অনেক বেশি ঝরঝরে ও পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হচ্ছে।
চিকিৎসা নিতে আসা দূরদূরান্তের রোগীরাও হাসপাতালের এই ইতিবাচক পরিবর্তনে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। হাত ও চোখের চিকিৎসার জন্য আসা মো. গোলাম, সেলিম সরকার এবং মোছা. বৃষ্টি জানান, অতীতে এই হাসপাতালের বিভিন্ন ব্লকে দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে ভোগান্তি পোহাতে হতো। কিন্তু বর্তমানে চারপাশ পরিষ্কার থাকায় এবং চিকিৎসাসেবা সহজে পাওয়ায় তারা দারুণ সন্তুষ্ট। তারা এই ইতিবাচক ধারার টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী ধারাবাহিকতা কামনা করেছেন।
হাসপাতালের সার্বিক এই রূপান্তর সম্পর্কে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শিমুল তালুকদার জানান, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রোগীদের জন্য একটি স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ উপহার দেওয়া তাদের নৈতিক দায়িত্ব। সীমিত জনবলের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে দলগত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই তিনি এই সেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শহীদুল্লাহ দেওয়ান তার এই কাজের উচ্চ প্রশংসা করে বলেন, ডা. শিমুল প্রশাসনিক দায়িত্ব ও নিয়মিত চিকিৎসাসেবা প্রদানের পাশাপাশি যেভাবে স্বহস্তে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা দেশের অন্যান্য হাসপাতালের চিকিৎসকদের জন্যও একটি উজ্জ্বল অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত।
