বাংলাদেশের ফুটবলে স্ট্রাইকার-সংকট নতুন কিছু নয়। গোল করার মতো নির্ভরযোগ্য ফরোয়ার্ডের অভাবে দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছে জাতীয় দল। সেই আক্ষেপ ঘোচানোর আশায় এবার যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী তরুণ রোনান সুলিভানের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ। অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে লাল-সবুজের জার্সিতে আলো ছড়ানো এই ফরোয়ার্ড এবার খেলবেন জাতীয় দলের হয়ে। আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে তার অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহসভাপতি ফাহাদ করিম।
রোনানকে পাওয়া নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে। আজ রাজধানীর বাফুফে ভবনে ফাহাদ করিম বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আজকেই আমাকে সে কনফার্ম করেছে যে, ইনশাআল্লাহ সে আসতে পারবে। ১৮ অক্টোবর খেলোয়াড় তালিকা নিবন্ধনের শেষ দিন। আমরা তাকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করব।’
জাতীয় দলে রোনানের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আগ্রহের বড় কারণ গত এপ্রিলে তার পারফরম্যান্স। মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই ফ্রি-কিক ও হেড থেকে দুটি গোল করে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন এই ফরোয়ার্ড। তার জোড়া গোলেই বাংলাদেশ ম্যাচটি জিতেছিল ২-০ ব্যবধানে।
শুধু গ্রুপ পর্বেই নয়, ফাইনালেও দলের প্রয়োজন মিটিয়েছিলেন রোনান। ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ের লড়াইয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। সেই টাইব্রেকারেও গোল করেছিলেন রোনান। যুব দলের হয়ে এমন পারফরম্যান্সের পর এবার জাতীয় দলের বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।
বাংলাদেশের আক্রমণভাগে তার উপস্থিতি কতটা প্রভাব ফেলবে, তা অবশ্য সময়ই বলে দেবে। তবে একজন স্বীকৃত স্ট্রাইকারের অভাবের মধ্যে রোনানের অন্তর্ভুক্তি নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। বয়সভিত্তিক দলের সাফল্যকে জাতীয় দলের পর্যায়ে টেনে নেওয়াই এখন তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
আগামী ৫ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম আসর। ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে নেপাল অংশ নিতে না পারায় এবার ছয়টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ‘এ’ গ্রুপে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। ‘বি’ গ্রুপে খেলবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান।
গ্রুপ পর্ব শেষে ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে দুটি সেমিফাইনাল। ১৭ নভেম্বর হবে শিরোপার লড়াই। ঘরের মাঠের এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের লক্ষ্য ভালো কিছু করা। সেই লক্ষ্যে রোনানের গোল করার দক্ষতা আক্রমণভাগে নতুন শক্তি যোগ করতে পারে।
