নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ময়মনসিংহে। এ লক্ষ্যে জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ২০২৬ এবং ওয়াশ সেক্টর উন্নয়ন পরিকল্পনা ২০২৬-২০৪০ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্ব ও করণীয় তুলে ধরা হয়েছে এক অবহিতি সভায়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নগরীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে দিনব্যাপী এ সভা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার। সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব সাইফুল ইসলাম মজুমদার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালার মূল লক্ষ্য মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষা। এ লক্ষ্য অর্জনে অন্যের সমালোচনার পরিবর্তে নিজ নিজ দপ্তরে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ও নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রত্যেক দপ্তরকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে যুগ্ম সচিব সাইফুল ইসলাম মজুমদার বলেন, এ অবহিতি সভার মাধ্যমে ময়মনসিংহে জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা এবং পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) কার্যক্রমের প্রচার আরও বিস্তৃত হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। অংশগ্রহণকারীদের আলোচনা ও মতামত সভাকে সমৃদ্ধ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান সভা আয়োজনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ ও বিভাগীয় কমিশনারকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি ‘ক্লিন সানডে’র বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
এর আগে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব সুয়ে মেন জো ও তাঁর সহযোগীরা জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ২০২৬ এবং ওয়াশ সেক্টর উন্নয়ন পরিকল্পনা ২০২৬-২০৪০ নিয়ে উপস্থাপনা করেন। এতে নীতিমালার উদ্দেশ্য, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ভূমিকা তুলে ধরা হয়।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) জন কেনেডি জাম্বিল, বিভাগীয় উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) ও উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) উম্মে হাবিবা মীরা।
এতে ময়মনসিংহ বিভাগ ও জেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, পরিবেশ, তথ্য, মহিলা বিষয়ক, যুব উন্নয়ন, ক্রীড়া ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানেরা অংশ নেন।
