ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি গত ৮ মাস ধরে উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। যুদ্ধের গুরুতর প্রভাব পড়েছে গোটা বিশ্বে। এই ইস্যুতেই এবার সরব হলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। তিনি বলেন, “যুদ্ধ যেখানেই ঘটুক না কেন, তা গোটা বিশ্বকে প্রভাবিত করে। যুদ্ধ বিশ্বের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে কেউ নিরপব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না।”
রবিবার দিল্লিতে চিন্ময় অমৃত মহোৎসব গ্লোবাল কনফারেন্সে যোগ দিয়েছিলেন বিদেশমন্ত্রী। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “যে কোনও সংঘাত, তা রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ হোক কিংবা আমেরিকা ও ইরানের যুদ্ধ। তা থামানোর একমাত্র উপায় হতে পারে আলোচনা ও কূটনীতি।” একইসঙ্গে বলেন, ভারত যখন বলে আলোচনা ও কূটনীতিই একমাত্র সমাধান, তখন তা এক বৈশ্বিক মনোভাবেরই প্রতিফলন ঘটায়। শান্তির পক্ষে সওয়াল করার পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হন বিদেশমন্ত্রী জয়শংকর।
জয়শংকর বলেন, “সন্ত্রাসবাদ হল শান্তির পথে আর একটি মারাত্মক হুমকি। কিছু দেশ নিজেদের উদ্দেশ্যসাধনে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করে। এটা কোনওভাবেই গ্রহণ করা যায় না।”
তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদ হল শান্তির পথে আর একটি মারাত্মক হুমকি। কিছু দেশ নিজেদের উদ্দেশ্যসাধনে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করে। এটা কোনওভাবেই গ্রহণ করা যায় না। সন্ত্রাসবাদের নীতি কখনই সমর্থনযোগ্য নয়। এরপরও সন্ত্রাসবাদ টিকে রয়েছে বিশ্বে, কারণ সব দেশ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেয়নি। ইতিহাস তাদের শিক্ষা দিলেও, এখনও রাজনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয় কিছু দেশ।” বিদেশমন্ত্রী আরও বলেন, “সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে বিশ্বকে সতর্ক থাকতে হবে। সন্ত্রাসবাদ যে রূপেই আসুক না কেন লড়াইয়ের জন্য আরও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
এরপরই জয়শংকর বলেন, বিশ্বজুড়ে যখন এমন ঘটনা ঘটে, যখন আমরা নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারি না। ভারতও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অন্যান্য দেশের সঙ্গে কাজ করে। উল্লেখ্য, বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন, আমেরিকা-ইরান এবং সৌদি আরব-হাউথিদের মধ্যে সামরিক সংঘাত চলছে। হাউথিরা লাগাতার সৌদি আরবের তেল শোধনাগার ও বিমানবন্দরগুলোকে নিশানা করছে। এহেন পরিস্থিতির মাঝে জয়শংকরের এই বার্তা নিশ্চিতভাবেই তাৎপর্যপূর্ণ।
