নিরাপত্তার কারণে রাঙামাটির সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করায় আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। দুর্গাপূজার ছুটিকে সামনে রেখে রিসোর্ট ও কটেজে আগাম বুকিং থাকলেও হঠাৎ নিষেধাজ্ঞায় তা বাতিল করতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, টানা ১০ দিন পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকলে রিসোর্টের কক্ষভাড়া ও পরিবহন খাতেই সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য ব্যবসার ক্ষতি যুক্ত হলে তা ৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সাজেকের পর্যটন ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, সেখানে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৩৫টি রিসোর্টে ৬৭৫টি কক্ষ রয়েছে। এসব কক্ষ থেকে প্রতিদিন ন্যূনতম ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয়ের হিসাব দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সে হিসাবে ১০ দিনে কক্ষভাড়া বাবদ সম্ভাব্য আয় ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, প্রতিদিন গড়ে ২০০টি গাড়ি সাজেকে যাতায়াত করে। প্রতিটি গাড়ির গড় ভাড়া ১৩ হাজার টাকা হিসাবে পরিবহন খাতে দৈনিক লেনদেন প্রায় ২৬ লাখ টাকা। ১০ দিনে এ খাতে সম্ভাব্য আয় ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
সাজেক রিসোর্ট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১৬ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সাজেকের বেশিরভাগ রিসোর্ট ও কটেজে আগাম বুকিং ছিল। দুর্গাপূজার ছুটিকে কেন্দ্র করে ১৯ অক্টোবর থেকে শতভাগ বুকিং থাকলেও বন্ধের সিদ্ধান্তে এখন পর্যটকদের টাকা ফেরত দিতে হচ্ছে। এতে পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সাজেক গাড়ির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইয়াছিন আরাফাত নামে একজন বলেন, সাধারণত শুক্র ও শনিবার ছাড়া অন্যান্য দিনে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০টি গাড়ি সাজেকে প্রবেশ করে। শনিবার রাতেও ৫৮টি গাড়িতে প্রায় ৫০০ পর্যটক এসেছিলেন। হঠাৎ বন্ধের সিদ্ধান্তে গাড়িচালক ও ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সম্প্রতি সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা সড়ক অবরোধে সাজেকগামী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে পর্যটকদের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটে।
সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করে এবং সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৫টার মধ্যে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়। সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মণ জানান, নির্দেশনা অনুযায়ী সব পর্যটক সাজেক ছেড়েছেন।
ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘায়িত হলে রিসোর্ট ও পরিবহন খাতের পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, স্থানীয় দোকানপাট, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পর্যটননির্ভর শ্রমজীবী মানুষের আয়ও কমে যাবে। তাদের দাবি, নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত পর্যটন কার্যক্রম চালু করা হোক।
