ধরুন আপনি আমেরিকায় যাচ্ছেন। সঙ্গে আম বা পেঁপে নিয়েছেন। আপনাকে এয়ারপের্টে জিজ্ঞেস করবে, সঙ্গে কোনো টাটকা ফল আছে কি না, থাকলে তা নিতে দেবে না। ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়াসহ অনেক দেশেই এই আইন। ওরা ফল নিতে দেয় না, কারণ ফলে যে পোকা বা অণুজীব থাকে, তা ওইসব দেশে ছড়িয়ে পড়লে তাদের সর্বনাশ হবে। তাদের দেশের ফলও পোকায় বা অণুজীবে আক্রান্ত হবে। সে জন্য বিদেশে ফল রপ্তানি করতে হলে তা প্রচলিত পদ্ধতিতেই করা হয়, তবে গামারশ্মি দিয়ে পোকার ডিম, লার্ভা (শূককীট) নিষ্ক্রিয় করতে হয়। নিষ্ক্রিয় করার অর্থ হলো ওইসব পোকা ডিম পাড়লেও সেই ডিম ফুটবে না। কোনো ক্ষেত্রে তা ফুটলেও ওই নিষ্ক্রিয় পোকা বংশ বিস্তার করতে পারবে না।
জীববিজ্ঞানী রেজাউর রহমান দেখান, যদি পরিমিত গামারশ্মি প্রয়োগ করা হয়, তাহলে ফলের ভেতরে অবস্থানরত একটি শূককীটের মস্তিষ্কের আয়তন ৮০ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হয়ে যাবে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, ফল যথাযথভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে কি না তা কীভাবে বোঝা যাবে? এ বিষয়ে আমাদের দেশের প্রখ্যাত জীববিজ্ঞানী রেজাউর রহমান আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি, আইএইএ) স্কলারশিপ নিয়ে ভিয়েনায় গবেষণা করেন। তিনি ১৯৮৭সালে ফল পরীক্ষার খুব সহজ একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। তিনি দেখান, যদি পরিমিত গামারশ্মি প্রয়োগ করা হয়, তাহলে ফলের ভেতরে অবস্থানরত একটি শূককীটের মস্তিষ্কের আয়তন ৮০ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হয়ে যাবে।
তখন বলে দেওয়া যাবে যে ফলের চালান যথাযথভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে কি না। এ পরীক্ষা এক মিনিটেই করা যায়। তাই ড. রেজাউর রহমানের আবিষ্কৃত পদ্ধতিটি যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসডিএ সাগ্রহে গ্রহণ করে। ওরা হাওয়াই থেকে যেসব ফল আমদানি করত, সেগুলো নিরাপদ কি না তা পরীক্ষার একটি সহজ পদ্ধতি চাইছিল। যুক্তরাষ্ট্রের একটি ন্যাশনাল সায়েন্স ম্যাগাজিনে এই আবিষ্কারের বিষয়ে নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। এটা হলো আমদানি-রপ্তানির ব্যাপার। কিন্তু কোনো যাত্রী সঙ্গে তাজা ফল নিলে এয়ারপোর্টে দু-একটি ফল পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা সম্ভব নয়। তাই যাত্রীদের সঙ্গে বিদেশে ফল নেওয়া যায় না।
