বহুল প্রতীক্ষিত এল ক্লাসিকো কাল। ফর্মের তুঙ্গে থাকা বার্সেলোনার মাঠে নামবে রিয়াল মাদ্রিদ। দ্বিতীয় মাদ্রিদ অধ্যায়ে লা লিগায় প্রথম বড় পরীক্ষা দিতে চলেছেন হোসে মরিনিও। রোববারের ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে কোনোভাবেই তার মুখ থেকে এই ম্যাচের সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে কথা বের করা গেল না। বরং ঠাট্টা করে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন রিয়াল কোচ।
বার্সেলোনা যেখানে প্রশংসার সাগরে ভাসছে, তখন তার দল অতিরিক্ত সমালোচনায় নাস্তানাবুদ হচ্ছে। এই ব্যাপারে মরিনিওর পাল্টা জবাব, ‘এক সপ্তাহ আগে লোকেরা যদি বিশ্বাস করত, আমরা বড় হার দেখব, তারা সেটা বিশ্বাস করেই যেত। লোকেরা বার্সেলোনাকে নিয়ে ভালো কথা বললে বলুক, আমার কিছুই যায় আসে না। এটা আমার ভাবার বিষয় না।’
অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য বার্সেলোনা প্রশংসার দাবি রাখে স্বীকার করলেন মরিনিও। কিন্তু নিজের দল নিয়ে তার মত, এখনও শুরুর পর্যায়ে আছে তার দল, ‘আমাদের একটি পূর্ণাঙ্গ দল হিসেবে দেখা হয় এবং এটা ফুটবলে চরম কঠিন ব্যাপার। কিন্তু আমরা সেই পর্যায়ে পৌঁছাইনি। আমরা তিন মাস ধরে কাজ করছি, প্রাক মৌসুমে খেলোয়াড়রা যোগ দিয়েছিল, তারপর তো আন্তর্জাতিক বিরতি ছিল। আমরা এখনও শুরুর পর্যায়ে, যেখানে কোচ তার খেলোয়াড়দের সম্পর্কে জানে, তাদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে এবং কর্মপরিকল্পনা করে। আর খেলোয়াড়রা তার ধারণা সম্পর্কে বুঝতে পারে। কয়েক বছর ধরে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা আরেকটি দলের সঙ্গে এই পর্যায়ের একটি দলের তুলনা করাকে আমি ন্যায়সঙ্গত মনে করি না।’
কিছুদিন আগে মরিনিওর গালে দাড়ি দেখা গিয়েছিল। সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে তিনি দাড়ি রেখেছিলেন কি না প্রশ্নে বললেন, ‘এটা মোটেও কুসংস্কার নয়। দাড়িতে কি আমাকে খারাপ লাগছিল? আমার কি না রাখা উচিত?’ ফুটবলে কুসংস্কারে বিশ্বাসী নয়, এমন কোচদের মধ্যে তিনি নিজেকে অন্যতম বললেন।
ক্লাসিকো নিয়ে পরিকল্পনা ও শুরুর একাদশ নিয়ে জানতে চাইলে পর্তুগিজ কোচ সরাসরি বললেন, ‘আমি এই প্রশ্নের উত্তর দিবো না। অন্য কোনো প্রশ্ন করুন। আমি আমার পরিকল্পনা বা খেলোয়াড়দের নিয়ে বা লাইনআপ প্রসঙ্গে কথা বলব না।’
রক্ষণের দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল মরিনিওকে। তিনি কি আরও আক্রমণাত্মক হবেন কি না, এমন দুটি প্রশ্নের উত্তরে কৌশল প্রকাশ পেতে পারে, তাই এবারও প্রশ্নকারী সাংবাদিককে ব্যঙ্গ করলেন মরিনিও, ‘আপনি চালাক, কিন্তু আমি আমি আহম্মক নই।’
এফএইচএম
