মশার লার্ভা নিধনে সরবরাহকৃত কীটনাশকের গুণগত মান যাচাইয়ের প্রাথমিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এম আর এন্টারপ্রাইজ’-এর কার্যাদেশ বাতিল করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে সরবরাহকৃত সমুদয় ওষুধ ফেরত নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর প্রায় ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই হাজার লিটার লার্ভিসাইড কেসিসিকে সরবরাহ করেছিল এম আর এন্টারপ্রাইজ। পরবর্তীতে ১২ সেপ্টেম্বর কীটতত্ত্ববিদ ও রাসায়নিক বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে ওই ওষুধের মাঠ পরীক্ষা পরিচালনা করে সিটি করপোরেশন। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় যে, ওষুধ প্রয়োগের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ১২ শতাংশ লার্ভার মৃত্যু ঘটে, যা নির্ধারিত মানদণ্ডের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য ও অসন্তোষজনক। এর ঠিক এক মাস পর মঙ্গলবার সেই কার্যাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হলো।
কেসিসির পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুমোদিত কমিটির মাধ্যমে সংগৃহীত র্যান্ডম স্যাম্পলের গুণগত মান পরীক্ষায় লার্ভার মৃত্যুর হার মাত্র ১২ শতাংশ পাওয়া গেছে। এই ফলাফল সন্তোষজনক না হওয়ায় ৬ সেপ্টেম্বরের কার্যাদেশ বাতিলসহ ওষুধ ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করে এম আর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ড. মো. মাহবুবুর রহমান গাজী দাবি করেন, দরপত্রের শর্তে এটি অন্তর্ভুক্ত ছিল না এবং কেসিসির ওষুধ পরীক্ষার পদ্ধতিও সঠিক ছিল না। নতুন করে পরীক্ষার জন্য আবেদন করা হলেও এবং আলোচনা চলমান থাকা অবস্থায় হঠাৎ কার্যাদেশ বাতিল করায় তারা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন।
ঠিকাদারের এই অভিযোগ খণ্ডন করে কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, দরপত্রের অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল মাঠ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরই কেবল ওষুধের রাসায়নিক পরীক্ষা করা হবে; কিন্তু প্রাথমিক পরীক্ষাতেই তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। গত কয়েক দশক ধরে প্রতিবছর একাধিকবার একই নিয়মে মশার ওষুধ পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। ১২ সেপ্টেম্বর কীটতত্ত্ববিদ ও বিশেষজ্ঞদের সামনেই নির্ধারিত নিয়ম মেনে ওষুধ পরীক্ষা করা হয়েছে এবং সকলের উপস্থিতিতে দৃশ্যমান ফলাফলের ভিত্তিতেই চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে কেসিসির পরিচালনা কমিটির সভায় ডিপিএম পদ্ধতিতে নৌবাহিনী পরিচালিত নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড থেকে নতুন মশার ওষুধ ক্রয়ের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এ প্রসঙ্গে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আগের ঠিকাদারের পক্ষে নানা মহল থেকে তদবির করা হলেও ভেজাল বা নিম্নমানের ওষুধ গ্রহণের বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। নগরবাসীর স্বাস্থ্য ও জীবন নিয়ে কোনো ধরনের ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। ওষুধের বর্তমান মজুত প্রায় শেষ হয়ে আসায় বরিশাল ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে আপাতত এক হাজার লিটার নতুন ওষুধ দ্রুত সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা গ্রহণের আগেও কঠোর পরীক্ষা করা হবে। এছাড়া, উড়ন্ত মশা নিধনে নতুন ওষুধের কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য মঙ্গলবার বিকেলে নগরের কেসিসি গ্যারেজে কীটতত্ত্ববিদ, কীটনাশক বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক ও নাগরিক নেতাদের উপস্থিতিতে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চালানো হয় এবং বুধবার (১৪ অক্টোবর) এর চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
