উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রোমাঞ্চে ঠাসা এক হাইভোল্টেজ ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটির মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়াম থেকে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে পিএসজি। লুইস এনরিকের দল স্বাগতিক সিটিকে ৪-২ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে। ম্যাচের প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নেয় ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। দ্বিতীয়ার্ধে আর্লিং হালান্ড জোড়া গোল করে ম্যাচে ফেরার দারুণ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত এনজো মারেস্কার দলকে পরাজয় মেনেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে।
ম্যাচের দ্বাদশ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের কর্নার থেকে উড়ে আসা বল পিএসজি গোলরক্ষক মাতভেই সাফানভের হাত ছুঁয়ে ক্রসবারে লাগলে পিছিয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায় সফরকারীরা। এর পরপরই মাত্র দুই মিনিটের ঝড়ে সিটিকে কোণঠাসা করে ফেলে তারা। ১৩তম মিনিটে ফ্যাবিয়ান রুইজের পাস পেয়ে দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে নিচু শটে পিএসজিকে এগিয়ে নেন দেজিরে দুয়ে। এর দুই মিনিট পরই দুয়ের ক্রসে হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে। এরপর ৩২তম মিনিটে ওয়ারেন জাইরে-এমেরির চমৎকার ফ্লিক থেকে বাঁকানো শটে ভিতিনিয়া দলের তৃতীয় গোলটি করলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় পিএসজি।
বিরতির পর ফিরে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে সিটি। ৫৩তম মিনিটে ইলিমান এনদাইয়ের ক্রসে দারুণ এক হেডে ব্যবধান ৩-১ করেন আর্লিং হালান্ড। তবে স্বাগতিকদের সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি ম্যাঘনেস অ্যাকলিউস। ৬০তম মিনিটে তাঁর নেওয়া শট সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার হাতে লেগে গোললাইন অতিক্রম করলে ৪-১ গোলে এগিয়ে গিয়ে জয়ের পথ সুগম করে পিএসজি।
এরপর সিটির হয়ে ব্যবধান কমাতে একাই লড়াই চালিয়ে যান হালান্ড। ৭৪তম মিনিটে তাঁর একটি হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসার পরের মিনিটেই আয়ুব বুয়াদির বাড়ানো পাস থেকে নিচু শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার। ৮৩তম মিনিটে হ্যাটট্রিক পূরণের নিশ্চিত সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি, তবে তাঁর সেই প্রচেষ্টাটি গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন পিএসজি গোলরক্ষক সাফানভ।
খেলার অন্তিম মুহূর্তে ৮৮তম মিনিটে পিএসজির নুনো মেন্দেস ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় সফরকারীরা। তবে স্পট কিক থেকে বদলি খেলোয়াড় ফেররান তোরেসের নেওয়া শটটি ঠেকিয়ে দেন সিটি গোলরক্ষক দোন্নারুম্মা। ফলে আর কোনো গোল না হওয়ায় ইতিহাদে ৪-২ ব্যবধানের স্মরণীয় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
