চলতি বছরের দুর্গাপূজা শেষ হতেই ২০২৭ ও ২০২৮ সালের পূজার সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই জানা গেছে, ২০২৮ সালে পঞ্জিকার দুটি পৃথক গণনাপদ্ধতি অনুসরণের কারণে প্রায় ১৫ দিনের ব্যবধানে দুই সময়ে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
তিথি গণনার পদ্ধতিগত পার্থক্যের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার। বিরল এই ঘটনা নিয়ে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে জোড়া সপ্তমী এবং ২০২৭ সালে জোড়া মহাঅষ্টমীর পর ২০২৮ সালে দুটি পৃথক সময়ে দুর্গাপূজা আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
হিন্দু শাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলায় দুর্গাপূজার সময় নির্ধারণে মূলত দুটি পঞ্জিকাপদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। একটি হলো বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত, অন্যটি সূর্য সিদ্ধান্ত।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্তে দৃকসিদ্ধ গণনাপদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। অন্যদিকে সূর্য সিদ্ধান্তে মহাজাগতিক অবস্থানের ভিত্তিতে তিথি ও নক্ষত্রের হিসাব করা হয়। এই দুই পদ্ধতিতে তিথি নির্ধারণের পার্থক্যের কারণে ২০২৮ সালে দুর্গাপূজার সময়সূচিতে ব্যবধান দেখা দিতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত অনুসারে ২০২৮ সালের দুর্গাপূজা সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে সূর্য সিদ্ধান্ত অনুসরণ করলে পূজা হতে পারে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে। ফলে দুই পদ্ধতি অনুসারে আয়োজিত পূজার মধ্যে প্রায় ১৫ দিনের ব্যবধান তৈরি হতে পারে।
বেলুড় মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন এবং ভারত সেবাশ্রম সংঘের মতো বিভিন্ন মঠ, মন্দির ও আশ্রমে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত অনুসারে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে বনেদি বাড়ি, বারোয়ারি ও সর্বজনীন পূজার ক্ষেত্রে সূর্য সিদ্ধান্ত অনুসরণের প্রচলন রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে একই বছরে দুটি পৃথক সময়ে দুর্গাপূজা আয়োজনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ১৯৮০ সালেও দুটি পঞ্জিকাপদ্ধতি অনুসারে ভিন্ন সময়ে দেবী দুর্গার পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, উভয় পদ্ধতি অনুসারেই পূজার আয়োজন শুদ্ধ বলে বিবেচিত হয়। ফলে ২০২৮ সালে পঞ্জিকাভেদে দুর্গাপূজার সময়সূচিতে পার্থক্য দেখা দিলে তা ধর্মীয় রীতির ভিন্নতা হিসেবেই বিবেচিত হবে।
