বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তী অভিনেত্রী শবনম। বর্তমানে রাজধানীর বারিধারার পার্ক রোডের নিজ বাসভবনে সময় কাটাচ্ছেন তিনি।
কেমন করে সময় কাটছে বিগত কয়েক দশক? এমন প্রশ্নের জবাবে শবনম জানান, নিয়মিত টিভি দেখা, পত্রিকা পড়া, ফেসবুক স্ক্রল করা, মাঝে মাঝে বিভিন্ন আমন্ত্রণে যোগ দেওয়া কিংবা দেশের বাইরে ঘুরে আসার মধ্য দিয়েই দিন কেটে যাচ্ছে তাঁর।
বিজ্ঞাপন
তবে প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক স্বামী রবিন ঘোষের মৃত্যুর পর নিজেকে আরও বেশি গৃহবন্দী করে নিয়েছেন শবনম। এখন আর মন চাইলেও তেমন একটা বাইরে যেতে চান না।
অনেকের ধারণা ছিল, হয়তো দেশেই একাকী জীবন কাটাতে হবে শবনমকে। তবে সব ধারণাকে মিথ্যে প্রমাণ করে তাঁর সঙ্গে থেকে গেছেন একমাত্র সন্তান রনি। দেশের বাইরে নিজের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ থাকলেও একজন আদর্শ সন্তানের মতো মায়ের সেবা ও দেখভাল করতে তিনি দেশেই রয়ে গেছেন। মায়ের সঙ্গে থেকে যাওয়া এই সন্তানকে পরম সৌভাগ্য বলেই মনে করেন শবনম।
ছেলেকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শবনম বলেন, ‘একজন মা হিসেবে রনিকে নিয়ে আমি গর্বিত। বর্তমান সময়ে মা-বাবাদের সন্তানদের নিয়ে নানা ধরনের খবর দেখি; সেদিক বিবেচনায় আমার রনি সোনার টুকরো ছেলে। আমাকে এতটুকু কষ্ট করতে দেয় না, মা বলতে সে পাগল। সবাই আমার আদরের ছেলের জন্য দোয়া করবেন।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘সত্যি বলতে, ছেলের সঙ্গেই আমার অধিকাংশ সময় কাটে। মাঝে মাঝে টিভিতে সিনেমা বা খবর দেখি, ফেসবুকেও দেশ-বিদেশের নানান খবরাখবর পাই। তবে এই জীবনে হয়তো আর সিনেমা করা হবে না, কারণ শরীরটা আগের মতো ভালো নেই; কোনো না কোনো অসুস্থতা লেগেই থাকে।’
উল্লেখ্য, শবনম অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা ছিল কাজী হায়াৎ পরিচালিত কালজয়ী ছবি ‘আম্মাজান’। চলতি বছরে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তাঁকে ‘আজীবন সম্মাননা’য় ভূষিত করার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রজ্ঞাপন জারি হলেও এখনও আনুষ্ঠানিক অ্যাওয়ার্ড প্রদানের খবর মেলেনি।
