Published on
:
2 min read
বাংলা বাণিজ্যিক ছবিতে দেব-শুভশ্রী জুটি মানেই বাড়তি প্রত্যাশা। আর সেই জুটির প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে যদি যুক্ত হয় অ্যাকশন, রোম্যান্স, প্রতিশোধ আর জমজমাট সংলাপ, তা হলে দর্শকের আগ্রহ বাড়বেই। ‘দেশু ৭’ সেই প্রত্যাশা পূরণ করার মতোই একটি ছবি। তবে এ ছবির বিশেষ আকর্ষণ শুধু দেব-শুভশ্রীর রসায়ন নয়, পরিচালকের আসনে দেবের প্রথম আত্মপ্রকাশও। অভিনেতা হিসেবে দীর্ঘদিন দর্শকের মন জয় করার পর পরিচালনায় এসে তিনি কতটা সফল, সেই প্রশ্নের উত্তরও দেয় এই ছবি। গল্পের পটভূমি সীমান্তপুর। চোরাচালান, মাদক কারবার ও নারী পাচারের মতো অপরাধে জর্জরিত এই অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদী হামলায় প্রাণ হারান ভারতীয় জওয়ানরা। অপরাধীদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব দেওয়া হয় এক সময়ের আইপিএস অফিসার দেবাদিত্য অধিকারীকে, যে খুনের অপরাধে জেলবন্দি।
দেশের সুরক্ষার স্বার্থে শুরু হয় তার অভিযান। কিন্তু এই মিশনের মাঝেই সামনে আসে অতীতের প্রেম। দেবাদিত্যের পুরোনো ভালোবাসা শুভস্মিতা এখন অন্যের স্ত্রী। দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা আর ব্যক্তিগত আবেগের টানাপড়েন গল্পে যোগ করে অন্য মাত্রা। পরিচালক হিসেবে দেবের সবচেয়ে বড় সাফল্য, তিনি ছবির বাণিজ্যিক আবেদন সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। অ্যাকশন, আবেগ, হাস্যরস এবং রোম্যান্সকে মিলিয়ে এমন একটি বিনোদনমূলক ছবি তৈরি করেছেন, যা দর্শককে ধরে রাখে। প্রায় ২ ঘণ্টা ৪৬ মিনিটের ছবি হওয়া সত্ত্বেও চিত্রনাট্যের গতি বেশির ভাগ সময়েই বজায় থাকে। প্রথম ছবি পরিচালনা করতে এসে দেবের আত্মবিশ্বাস প্রশংসনীয়। যদিও কয়েকটি ঘটনা আরও বিশ্বাসযোগ্য ভাবে দেখানো যেত, তবু পরিচালনায় তাঁর প্রচেষ্টা নজর কাড়ে। অভিনয়ে দেব নিজের পরিচিত নায়কোচিত উপস্থিতি বজায় রেখেছেন। শুভশ্রীর সঙ্গে তাঁর রসায়ন ছবির অন্যতম প্রাপ্তি।
Ei Samay
অন্য দিকে, দুই যমজ ভাইয়ের চরিত্রে অনির্বাণ ভট্টাচার্য বিশেষ ভাবে নজর কাড়েন। দুই চরিত্রের স্বভাব ও অভিব্যক্তিতে পার্থক্য তৈরি করে খলনায়ক হিসেবে তিনি ছবিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছেন। অপরাজিতা আঢ্য, কাঞ্চন মল্লিক ও প্রদীপ ভট্টাচার্য ছবির কমেডি কোশেন্ট বাড়িয়েছেন। ইধিকা পালের উপস্থিতিও ছবির বিনোদনমূলক আবহ বাড়ায়। রথীজিৎ ভট্টাচার্যের আবহসঙ্গীত অ্যাকশন দৃশ্যগুলিকে আরও জমিয়ে তোলে। স্যাভি ও নীলায়ন চট্টোপাধ্যায়ের গানও উৎসবের মেজাজের সঙ্গে মানানসই। চিত্রগ্রহণ ও সম্পাদনাও ছবির গতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করেছে। তবে কিছু পার্শ্বচরিত্রের পরিসর আরও বাড়ানো যেত।
Ei Samay
দেবাদিত্যের অতীত এবং তার জেলবন্দি হওয়ার কারণ আরও বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরলে গল্পের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ত। কয়েকটি জায়গায় অবশ্য চিত্রনাট্যের খামতি প্রকাশ পেয়েছে। সব মিলিয়ে, ‘দেশু ৭’ দেবের কেরিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। প্রথম পরিচালনাতেই নিখুঁত ছবি না হলেও দর্শকের বিনোদনের চাহিদা বোঝার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে। দেব-শুভশ্রীর রসায়ন, অনির্বাণের অভিনয় এবং অ্যাকশন-রোম্যান্সের মিশেল ছবিটিকে উৎসবের মরশুমে উপভোগ্য করে তুলেছে। ছোটখাটো খামতি সরিয়ে রাখলে, বড় পর্দায় জমজমাট বিনোদন খুঁজছেন যাঁরা, তাঁদের জন্য ‘দেশু ৭’ নিঃসন্দেহে ভালো পছন্দ হতে পারে।
