বিরোধের সূত্রপাত অগস্ট মাসে। এফএসএসএআই জানিয়েছিল, তাদের পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মোহন রকি স্প্রিংওয়াটারের তৈরি কিছু পণ্যে প্রাকৃতিক উপাদান এবং সঠিক প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর না করে, অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়ের স্বাদ ও সুগন্ধ আনার জন্য বাহ্যিক কৃত্রিম বা প্রকৃতি-সদৃশ ফ্লেভার ব্যবহার করা হয়েছে।
০১ / ১৮
মহারাষ্ট্রে বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে ৫০০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে জনপ্রিয় সুরা প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘ওল্ড মঙ্ক’। তেমনটাই দাবি ওই সংস্থাটির।
০২ / ১৮
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’ (এফএসএসএআই) নির্দেশ দিয়েছিল যে, ওই মদের বোতলের লেবেলে ‘রাম’-এর পরিবর্তে ‘রাম-সদৃশ’ কথাটি উল্লেখ না করা পর্যন্ত এই জনপ্রিয় পানীয়টি মহারাষ্ট্রে বিক্রি করা যাবে না।
০৩ / ১৮
ওল্ড মঙ্ক-সহ জনপ্রিয় কিছু মদের ব্র্যান্ডের নির্দিষ্ট কয়েকটি ধরনের বিক্রি নিষিদ্ধ করার সময় এফএসএসএআই অভিযোগ তুলেছিল, ওই বিশেষ মদগুলিতে কৃত্রিম গন্ধ পাওয়া গিয়েছে যা নির্ধারিত উৎপাদন মান মেনে চলে না। তার পরেই ওই সিদ্ধান্ত।
০৪ / ১৮
সোমবার বম্বে হাই কোর্টে বিষয়টি নিয়ে শুনানি হয়। সেখানে এফএসএসএআই-এর পক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অনিল সিংহ জানান, প্রস্তুতকারক সংস্থা লেবেলে প্রস্তাবিত পরিবর্তন করতে সম্মত হলে তবেই বিক্রির অনুমতি দেওয়া হবে।
০৫ / ১৮
অন্য দিকে ওল্ড মঙ্কের প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘মোহন রকি স্প্রিংওয়াটার প্রাইভেট লিমিটেড’-এর আইনজীবী ভেঙ্কটেশ ঢোন্ড আদালতকে জানান, ঠাণে জেলায় অবস্থিত কারখানায় পণ্য বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞার কারণে সংস্থার ৫০০ কোটি টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
০৬ / ১৮
সুরা সংস্থাটির আইনজীবী এ-ও উল্লেখ করেন, এফএসএসএআই-এর ওই সিদ্ধান্তের ফলে আবগারি দফতরের প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় ৩০০ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। আইনজীবী ঢোন্ড এ-ও বলেছেন, মহারাষ্ট্রে বিক্রি নিষিদ্ধ থাকলেও দেশের অন্যান্য রাজ্যে এই পণ্যটি বিক্রি অব্যাহত রয়েছে।
০৭ / ১৮
বিরোধের মূল কারণ অ্যালকোহলযুক্ত কিছু পানীয়ে অতিরিক্ত ফ্লেভার ব্যবহার করা সত্ত্বেও প্রচলিত পণ্যের নামেই বাজারজাত করা নিয়ে এফএসএসএআই-এর আপত্তি। নিয়ন্ত্রক সংস্থার যুক্তি, কৃত্রিম বা প্রকৃতির অনুরূপ রাম ফ্লেভার যোগ করলে মূল স্পিরিটের প্রকৃত গঠন আড়াল হয়ে যেতে পারে এবং গ্রাহকেরা বিভ্রান্ত হতে পারেন। যদি না পণ্যটিতে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয় যে এটি ‘গন্ধযুক্ত’ বা ‘রাম ফ্লেভারের স্পিরিট’।
০৮ / ১৮
এই বিরোধের সূত্রপাত অগস্ট মাসে। এফএসএসএআই জানিয়েছিল, তাদের পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, মোহন রকি স্প্রিংওয়াটারের তৈরি কিছু পণ্যে প্রাকৃতিক উপাদান এবং সঠিক প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর না করে, অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়ের স্বাদ ও সুগন্ধ আনার জন্য বাহ্যিক কৃত্রিম বা প্রকৃতি-সদৃশ ফ্লেভার ব্যবহার করা হয়েছে।
০৯ / ১৮
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরীক্ষিত পণ্যগুলি নিম্ন মানের ছিল, কারণ এতে ‘বাইরের কৃত্রিম বা প্রকৃতির অনুরূপ ফ্লেভারের উপস্থিতি’ পাওয়া গিয়েছিল। আর সে কারণেই ওই সংস্থাগুলির নির্দিষ্ট কিছু পণ্য বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল।
১০ / ১৮
খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, ভারতীয় খাদ্য সুরক্ষাবিধি অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়ে প্রাকৃতিক ফ্লেভারিং পদার্থ ব্যবহারের অনুমতি দেয়। তবে এফএসএসএআই বলেছে, পরীক্ষাগারে দেখা গিয়েছে যে, কিছু প্রস্তুতকারক অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়ের মধ্যেই ফ্লেভার যোগ করছিল। অর্থাৎ, রামে রাম ফ্লেভার বা হুইস্কিতে হুইস্কি ফ্লেভার যোগ করা হয়েছিল।
১১ / ১৮
যে যে মদ বিক্রির উপর সে সময় এফএসএসএআই নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল তার মধ্যে মহারাষ্ট্রে মোহন রকি স্প্রিংওয়াটার দ্বারা উৎপাদিত ওল্ড মঙ্কের তিনটি পণ্য ছিল। সেই তিনটি হল— ওল্ড মঙ্ক দ্য লিজেন্ড, ওল্ড মঙ্ক গোল্ড রিজ়ার্ভ এবং ওল্ড মঙ্ক ট্রিপল এক্স ম্যাচিয়োরড রাম।
১২ / ১৮
এফএসএসএআই-এর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে মামলা করে ওল্ড মঙ্ক। ইতিমধ্যেই বম্বে হাই কোর্ট এই নিষেধাজ্ঞার উপর তাৎক্ষণিক অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশের আর্জি খারিজ করেছে।
১৩ / ১৮
এর পর বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সংস্থাটি সংশোধিত লেবেলের খসড়া জমা দিতে সম্মত হয়েছিল। যেখানে বিতর্কিত ‘বয়স সূচক’ বিবরণগুলি বাদ দেওয়া এবং ‘অতিরিক্ত ফ্লেভার’ ব্যবহারের বিষয়টি স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল।
১৪ / ১৮
এ ছাড়া এফএসএসএআই ওল্ড মঙ্কের লেবেলে থাকা বয়স সংক্রান্ত বিবরণ, যেমন ‘৭ ইয়ার্স ওল্ড ব্লেন্ডেড’ এবং ‘ভেরি ওল্ড ভ্যাটেড’ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিল। খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির মতে, এ সব ক্ষেত্রে লেবেলিং সংক্রান্ত নিয়মকানুন যথাযথ ভাবে মেনে চলা হয়নি।
১৫ / ১৮
এর পর সংস্থার তরফে নতুন লেবেল আনা হলেও খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা সংশোধিত লেবেলগুলির অনুমোদন দেয়নি এবং উভয় পক্ষের আলোচনায় অচলাবস্থা কাটানোও সম্ভব হয়নি।
১৬ / ১৮
এর পর সংস্থাটি প্রধান বিচারপতি এম সি ত্রিপাঠী এবং বিচারপতি অদ্বৈত শেঠনার বেঞ্চের কাছে বিষয়টি গুণাগুণের ভিত্তিতে শুনানির অনুরোধ জানায়। আদালত ২৩ অক্টোবর চূড়ান্ত শুনানির জন্য মামলাটি গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছে।
১৭ / ১৮
উল্লেখ্য, ভারতের অনেক সুরাপ্রেমীর কাছেই রাম এবং ওল্ড মঙ্ক সমার্থক। রাম বললে আর কোনও ব্র্যান্ডের কথা চটজলদি মাথাতেও আসে না। ‘ওল্ড মঙ্ক’কে এক্সক্লুসিভ ব্র্যান্ড হিসাবে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছিলেন কপিল মোহন।
১৮ / ১৮
১৯৫৪ সালে ওল্ড মঙ্ক লঞ্চ হয়। ১৯৬০-এর মধ্যেই ওই ব্র্যান্ডটি হয়ে ওঠে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া মদ। এর পর দীর্ঘ দিন পর্যন্ত বিক্রির সেই ধারা বজায় ছিল। এমনকি, ভারতে তৈরি সবচেয়ে বড় বিদেশি লিকার ব্র্যান্ডও ছিল ওল্ড মঙ্ক।
সব ছবি: সংগৃহীত।
