লক্ষ্মীপুরে অনিয়ম-দুর্নীতি ও ঘুস গ্রহণসহ নানা ঘটনায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে বরখাস্ত এবং বদলি করা হয়েছে। তারা হলেন-লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী বিলকিস আক্তার ও লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন। এর মধ্যে ‘ঘুস’ গ্রহণের সময় পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। বকেয়া বিল ও মালামালের ফাইল অনুমোদনের বিনিময়ে এক ঠিকাদারের কাছে সরাসরি মোটা অঙ্কের ঘুস দাবি করেন তিনি। সেই কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘২ কোটি টাকার নিচে নেব না’।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ঘটনা তদন্তে গঠন করা হয়েছে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি। এদিকে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মজুপুর এলাকায় ৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকার সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণ কাজে অতি নিুমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরই মধ্যে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অনুসন্ধানে নেমে প্রকৌশলীকে তলব করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব ঘটনায় গত ১৫ অক্টোবর লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন জুয়েলকে স্ট্যান্ড রিলিজড করে খাগড়াছড়ি পৌরসভায় পদায়ন করে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিদায়ি নির্বাহী প্রকৌশলী বিলকিস আক্তারের বিরুদ্ধে ৯ হাজার ৩৮৯টি টুইন পিট ল্যাট্রিন বিতরণ এবং ৫৬ কোটি টাকার ওয়াশ প্রকল্পে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮ থেকে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়াশব্লক নির্মাণেও মারাত্মক অনিয়ম ও তদারকিতে অবহেলার প্রমাণ মেলে। এর আগে গাজীপুরে দায়িত্ব পালনকালেও তার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ ছিল বলে জানা গেছে। একাধিক গণমাধ্যমে টুইন পিট ল্যাট্রিন বিতরণ কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়। অবশেষে গত ২৪ আগস্ট তাকে স্ট্যান্ড রিলিজড করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে পদায়ন করা হয়।
