শামা ওবায়েদ বলেন, তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠেয় আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশ শতভাগ প্রাকৃতিক ও বায়োডিগ্রেডেবল পণ্য, বিশেষ করে পাটজাত পণ্য তুলে ধরবে। জলবায়ু ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে এ খাতে অগ্রণী ভূমিকায় নিয়ে যেতে চায় সরকার।
পরিবেশবান্ধব পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশকে নেতৃত্বের অবস্থানে নিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, পাটজাত পণ্য উৎপাদনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াই প্রাকৃতিক ও পরিবেশবান্ধব। বিশ্বজুড়ে এসব পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ এ খাতে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে চায়।
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘পিপল লেড পলিসি: বাংলাদেশ পজিশন অ্যাট কপ থার্টিওয়ান’ শীর্ষক জাতীয় অবস্থানপত্র প্রকাশ ও সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন্স (সিএসও) অ্যান্ড এনজিও কোয়ালিশন অব বাংলাদেশের ব্যানারে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ।
শামা ওবায়েদ বলেন, তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠেয় আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশ শতভাগ প্রাকৃতিক ও বায়োডিগ্রেডেবল পণ্য, বিশেষ করে পাটজাত পণ্য তুলে ধরবে। জলবায়ু ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে এ খাতে অগ্রণী ভূমিকায় নিয়ে যেতে চায় সরকার।
তিনি জানান, সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শুধু পাটজাত পণ্য নিয়ে একটি পৃথক প্যাভিলিয়ন থাকবে। পাটের আন্তর্জাতিক বাজার পুনরুদ্ধার, পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রসার এবং দেশীয় পাটচাষীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এরই মধ্যে স্পিনার, বেসরকারি খাত এবং পাটপণ্য প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা ও একাধিক বৈঠক হয়েছে।
পাটচাষীদের জীবনমান উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমার নিজ জেলা ফরিদপুর বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পাট উৎপাদনকারী এলাকা। তাই পাটের উন্নয়ন এবং কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করার বিষয়টি আমার কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
পরিবেশ সুরক্ষা ও অর্থনীতির সুবিধার্থে দেশীয় এ ঐতিহ্যবাহী পণ্যের পাশে দাড়াতে আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলোতে অংশ নেয়া প্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পাটপণ্য প্রমোট করার এবং দেশের পাটকে সমর্থন জানানোর বিশেষ অনুরোধ করছি।
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক কনভেনশন) মির্জা শওকত আলী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও নাইকমের নির্বাহী পরিচালক ড. এস এম মনজুরুল হান্নান খানসহ পরিবেশবিদ ও জলবায়ু নিয়ে কাজ করা উন্নয়নকর্মীরা।
