ভারত থেকে দুর্গাপূজা দেখতে বাংলাদেশে আসা পর্যটকদের অনেকে এ দেশের পূজার আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশের প্রশংসা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলের প্রধানমন্ত্রীর সফরের অতিথি হিসেবে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় পর্যটকদের বিভিন্ন ভিডিও ও সাক্ষাৎকার ছড়িয়ে পড়েছে। সেসব ভিডিওতে বাংলাদেশের দুর্গাপূজার আয়োজন ও আনন্দমুখর পরিবেশের প্রশংসা করতে দেখা যাচ্ছে তাদের। বিদেশি পর্যটকদের এমন অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন।
বিএনপিকে জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার সঙ্গে জড়িয়ে প্রচারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত ১৭ বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে দলটির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল ও ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে দেশের মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রিজভীর ভাষ্য, ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অতিরঞ্জিত প্রচার, মিথ্যাচার ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীকে সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে প্রচার চালানো হলে সমাজে অবিশ্বাস ও বিভেদ বাড়তে পারে। এ ধরনের অপপ্রচারের পুনরাবৃত্তি রোধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
দুর্গাপূজার সর্বজনীনতা তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, এটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও এর আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে। বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের একসঙ্গে উৎসব উদ্যাপনের দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি রয়েছে। এই সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণা করে রিজভী বলেন, বগুড়ায় তাদের বাড়ির সামনে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বড় মেলা বসত। সারা বছর তারা সেই মেলার জন্য অপেক্ষা করতেন। মেলা থেকে খেলনা পিস্তল, বেলুনসহ বিভিন্ন জিনিস কেনার স্মৃতি এখনো তার মনে রয়েছে। একটি ধর্মের উৎসব কীভাবে অন্য ধর্মের মানুষের কাছেও আনন্দের উপলক্ষ হয়ে ওঠে, সেই অভিজ্ঞতা তারই উদাহরণ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা পারস্পরিক সম্পর্ক, আস্থা ও সামাজিক বন্ধন নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে। এ প্রচেষ্টায় দেশীয় একটি শক্তি ও তাদের আন্তর্জাতিক সমর্থকেরা যুক্ত ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, এর মধ্য দিয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব পালন করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে গণতান্ত্রিক সহিষ্ণুতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের পরিবেশ ফিরে এসেছে। সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার রক্ষা করা জরুরি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে রিজভী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের পারস্পরিক বন্ধন, ভ্রাতৃত্ব ও সহাবস্থানের ঐতিহ্য সুদীর্ঘ। রাজনৈতিক স্বার্থে এই সম্প্রীতি নষ্টের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। পরে তিনি উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানান।
