মধ্যপ্রাচ্যের অমর লোকগাথা ‘আরব্য রজনী’ বা ‘ওয়ান থাউজেন্ড অ্যান্ড ওয়ান নাইটস’ অবলম্বনে এবার বড় পরিসরে লাইভ-অ্যাকশন সিরিজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে হলিউড। বিশ্বখ্যাত জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘স্পার্টাকাস’ ও ‘ভাইকিংস’-এর নির্মাতাদের যৌথ প্রয়াসে তৈরি হচ্ছে ১০ পর্বের নতুন ফ্যান্টাসি সিরিজ, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘অ্যারাবিয়ান নাইটস’। বিনোদনবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ভ্যারাইটির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ভেরিটাস এন্টারটেইনমেন্ট মেগা বাজেটের এই প্রজেক্টটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী একক কোনো গল্প অনুসরণের বদলে এই সিরিজে একটি বড় সিনেমাটিক ক্রসওভার বা মেলবন্ধন ঘটানো হচ্ছে। আরব্য রজনীর তিন কালজয়ী চরিত্র—দুঃসাহসী নাবিক সিনবাদ, জাদুর চেরাগের আলাদিন এবং তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন আলীবাবাকে প্রথমবারের মতো একই আখ্যানে নিয়ে আসছেন নির্মাতারা। কাহিনি অনুযায়ী, এক শক্তিশালী অশুভ জাদুকরের হাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে তাঁরা একত্রিত হন শাহেরজাদের সঙ্গে। সেই প্রতিকূল ও রোমাঞ্চকর অভিযানের মধ্য দিয়েই শাহেরজাদ রূপ নেন সর্বকালের অন্যতম সেরা গল্পকারে, যা পরবর্তীকালে অমর লোকসাহিত্যের জন্ম দেয়।
সিরিজটির চিত্রনাট্য যৌথভাবে রচনা করছেন ‘কিংস’ সিরিজখ্যাত লেখক কামরান পাশা এবং ‘স্পার্টাকাস’-এর চিত্রনাট্যকার স্টিভেন এস ডিনাইট। চিত্রনাট্যকার কামরান পাশা জানান, এর আগে হলিউডে আরব্য রজনীর মূল চরিত্রগুলোকে এভাবে এক ছাদের নিচে আনার উদ্যোগ কখনো নেওয়া হয়নি। আধুনিক অ্যাকশন ও রোমাঞ্চের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সাংস্কৃতিক সত্যতা বজায় রাখার বিষয়টি চিত্রনাট্যে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে চিত্রনাট্যকার স্টিভেন আশা প্রকাশ করেছেন যে, বর্তমান প্রজন্মের দর্শকদের কাছে এই ধ্রুপদী গল্প সম্পূর্ণ নতুন এক অভিজ্ঞতা হিসেবে ধরা দেবে।
এই মেগা প্রজেক্টের নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে হলিউডের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন ব্যক্তিত্ব যুক্ত রয়েছেন। এর আগে যাঁরা ‘ভাইকিংস’, ‘দ্য মর্নিং শো’, ‘দ্য সিজন’ এবং ‘দ্য মসকিউটো কোস্ট’-এর মতো তুমুল প্রশংসিত টিভি সিরিজগুলোর নির্মাণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। ফলে নির্মাণশৈলী ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসের দিক থেকেও এটি আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্মাতারা নিশ্চিত করেছেন, ‘অ্যারাবিয়ান নাইটস’ কেবল একটি সিজনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং একাধিক সিজন ধরে গল্পটি এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সবকিছু পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইনে সিরিজটির আনুষ্ঠানিক চিত্রধারণ শুরু হবে। ঐতিহাসিক আবহ নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে এই শুটিং প্রক্রিয়ায় সব ধরনের নীতিগত ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে বাহরাইন সরকার।
