একা থাকা এবং একাকীত্বে ভোগা এক জিনিস নয়
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->একা থাকার মধ্যে একধরনের অদ্ভুত স্বাধীনতা রয়েছে। আপনি যা খুশি খেতে পারেন, নিজের মতো করে ঘর সাজাতে পারেন এবং কাউকে কোনো জবাবদিহি না করেই অলস সময় কাটানোর বিলাসিতা উপভোগ করতে পারেন। তবে এই একই স্বাধীনতা কখনো কখনো ভীষণ ভারী মনে হতে পারে। বিশেষ করে যখন আপনার দিনটি খারাপ যায়, অসুস্থ হয়ে পড়েন কিংবা কোনো এক সন্ধ্যায় সম্পূর্ণ ফাঁকা ঘরে ফিরে আসেন। একা থাকা মানে শুধু আত্মনির্ভরশীল হওয়া নয়, বরং একাকীত্বের সঙ্গে লড়াই করতে শেখাও।
‘এইচটি লাইফস্টাইল’-এর ধারাবাহিক আয়োজন ‘থিংস নোবডি টেলস ইউ অ্যাবাউট’-এর এই পর্বে একাকী জীবন কেমন হয়, তা বিশ্লেষণ করেছেন পরামর্শদাতা মনোবিজ্ঞানী, লেখিকা ও লাইফ কোচ দামিনী গ্রোভার।
দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে একসময় ক্লান্তি আসতে পারে
সবকিছু একা সামলানোর পেছনে থাকে এক অদৃশ্য মানসিক চাপ। কী খাবেন তা ঠিক করা, ইউটিলিটি বিল দেওয়া, কল চুইয়ে পানি পড়া ঠিক করা কিংবা অসুস্থতার দিনগুলোতে পাশে কেউ থাকা। এই ছোটখাটো বিষয়গুলোর মানসিক বোঝা ভাগ করে নেওয়ার কেউ থাকে না।
দামিনী বলেন, ‘যখন সব দায়িত্ব আপনার কাঁধেই এসে পড়ে, তখন প্রতিটা সিদ্ধান্ত এমনকি সবচেয়ে ছোটটাও নেওয়া মানসিকভাবে বেশ ক্লান্তিকর হয়ে উঠতে পারে।’
নিস্তব্ধতার সঙ্গে সখ্য গঠন
একাকী জীবনে নিস্তব্ধতার সঙ্গে আপনার একটি নতুন সম্পর্ক তৈরি হয়। দামিনীর মতে, শুরুতে পুরো ঘর নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকাটা বেশ দারুণ মনে হয়। কিন্তু এমন কিছু সন্ধ্যা আসে, যখন সারাদিনের ধকল শেষে ঘরে ফিরে আপনি আবিষ্কার করবেন এটি ভাগ করে নেওয়ার মতো কেউ নেই। মাঝেমধ্যে আমাদের খুব গভীর কোনো আলোচনারও প্রয়োজন হয় না, কেবল আশেপাশে পরিচিত মানুষের উপস্থিতি থেকে যে স্বস্তি পাওয়া যায় আমরা সেটাই মিস করি।
আত্ম-সচেতনতা বৃদ্ধি
বিস্ময়কর হলেও সত্য, একা থাকা আমাদের নিজেদের সঙ্গে এক নতুন উপায়ে পরিচয় হওয়ার সুযোগ করে দেয়। যখন আমরা ক্রমাগত চারপাশে লোকজনের মাঝে থাকি না, তখন আমরা আমাদের চিন্তা, আবেগ, অভ্যাস এবং আচরণের ধরন সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন হয়ে উঠি।
দামিনী বলেন, ‘অনেকের জন্য এটি আত্ম-সচেতনতা বা নিজেকে জানার একটি বড় সুযোগ হয়ে ওঠে। তবে যারা চিরকাল ব্যস্ত ও হইচইপূর্ণ পরিবারে বড় হয়েছেন, তাদের জন্য শুরুতে এটি কিছুটা অদ্ভুত বা অচেনা ঠেকতে পারে।’
আমরা খুব কমই এই বিষয়ে আলোচনা করি যে ‘স্বাধীনতা’ এবং ‘সহযোগিতা পাওয়ার ইচ্ছা’ দুটো পাশাপাশি চলতে পারে। একা থাকা উপভোগ করা মানে এই নয় যে আপনি কখনো একাকীত্বে ভুগবেন না, কারও সাহায্য চাইবেন না কিংবা কেউ এসে একটু খেয়াল রাখুক তা আশা করবেন না। স্বাবলম্বী হওয়ার অর্থ এই নয় যে আপনাকে সব সময় মানসিকভাবেও পুরোপুরি স্বাবলম্বী হয়ে থাকতে হবে।
তা সত্ত্বেও, নিজের পছন্দমতো একটি জীবন গড়ে তোলার মধ্যে এক অপরিসীম আত্মশক্তি নিহিত রয়েছে।
দামিনী উল্লেখ করেন, ‘প্রতিটি পদক্ষেপে চারপাশের মানুষের সঙ্গে সমঝোতা না করেই আপনি আবিষ্কার করতে শুরু করেন যে আপনি আসলে কী পছন্দ করেন, আপনার কাজের স্বাভাবিক ছন্দ কী এবং আপনার ঘর ও জীবনকে আপনি কীভাবে দেখতে চান।’
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এটি বোঝা যে একা থাকা এবং একাকীত্বে ভোগা এক জিনিস নয়। আপনি একা থেকেও মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকতে পারেন, আবার জনাকীর্ণ মানুষের মাঝে থেকেও ভীষণ একা বোধ করতে পারেন।
তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
গ্রিনল্যান্ড: যেখানে নেই কোনো সড়ক, ৮০ শতাংশ বরফে ঢাকা
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪২ এএম
আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->বিশ্বমানচিত্রের দিকে তাকিয়ে কখনো কি ভেবেছেন গ্রিনল্যান্ড আসলে কেমন জায়গা? সুমেরু বা আর্কটিক অঞ্চলের এই বিশাল গন্তব্যটি পৃথিবীর সবচেয়ে অস্পৃষ্ট ও নির্জন স্থানগুলোর একটি।
বরফে ঢাকা একটি জায়গার নাম কেন ‘গ্রিনল্যান্ড’ রাখা হলো কিংবা কেন সেখানে গাড়ির চেয়ে নৌকার সংখ্যা বেশি। এরকম বেশ কিছু কারণে গ্রিনল্যান্ড এত বন্য, দূরবর্তী ও আকর্ষণীয়।
এটি বিশাল, কিন্তু প্রায় কোনো মানুষ বাস করে না
গ্রিনল্যান্ডের আয়তন অভাবনীয় পশ্চিম ইউরোপের প্রায় সমান কিংবা পুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক-তৃতীয়াংশ। যা একে পৃথিবীর ১২তম বৃহত্তম দেশে পরিণত করেছে। এর জনসংখ্যা মাত্র ৫৬ হাজার। অর্থাৎ প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যা মাত্র ০ দশমিক ০৩ জন! আপনি যদি কোলাহল ছেড়ে নির্জনতায় ডুব দিতে চান, তবে এটিই আপনার জন্য স্বর্গরাজ্য। দ্বীপটির ৮০ শতাংশ এলাকা বিশাল বরফের চাদরে ঢাকা, যা কোনো কোনো স্থানে ৩ হাজার ৫০০ মিটার পর্যন্ত গভীর।
যোগাযোগব্যবস্থা একদম অপ্রত্যাশিত
দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার কথা ভাববেনও না। গ্রিনল্যান্ডের শহরগুলোর মধ্যে যোগাযোগের কোনো রাস্তা নেই। দুর্গম খাঁড়ি এবং বিশাল বরফের চাদর বিভিন্ন লোকালয়কে আলাদা করে রাখায় উন্মুক্ত মহাসাগরই সেখানকার প্রধান মহাসড়ক বা হাইওয়ে হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর ফলে গ্রিনল্যান্ডের বহু মানুষের কাছে গাড়ির চেয়ে নৌকার সংখ্যা বেশি। পুরো দেশের সবচেয়ে দীর্ঘতম পাকা রাস্তাটি মাত্র ৩৫ কিলোমিটারের মতো যা ভলকসওয়াগেন কোম্পানি কাঙ্গারলুসুয়াক-এর কাছে বরফের ওপর শীতল আবহাওয়ায় গাড়ি পরীক্ষার ট্র্যাক হিসেবে তৈরি করেছিল।
সেখানে পৌঁছাতে হলেও বেশ পরিকল্পনা করতে হয়। বর্তমানে উত্তর আমেরিকা থেকে সরাসরি সেখানে ফ্লাইট নেই; ভ্রমণকারীদের অবশ্যই ডেনমার্ক অথবা আইসল্যান্ড (রেকিয়াভিক) হয়ে ট্রানজিট নিয়ে যেতে হয়।
জায়গার নাম ‘গ্রিনল্যান্ড’ কেন
এর জন্য এক নির্বাসিত ভাইকিংকে ধন্যবাদ দিতে পারেন! দশম শতাব্দীর শেষের দিকে ‘এরিক দ্য রেড’ নামে এক ভাইকিং বসতি স্থাপনকারীদের আকৃষ্ট করার কৌশল হিসেবে চতুরতার সঙ্গে এই ‘গ্রিনল্যান্ড’ নামটি দিয়েছিলো। পশ্চিমাদের কাছে এটি গ্রিনল্যান্ড নামে পরিচিত হলেও, স্থানীয় আদিবাসীরা তাদের মাতৃভূমিকে বলে ‘কালাল্লিত নুনাত’ যার অর্থ ‘গ্রিনল্যান্ডবাসীদের দেশ’।
আজ সেখানে আধুনিক পশ্চিমা সংস্কৃতির পাশাপাশি ইনুইট ঐতিহ্য সমান্তরালভাবে টিকে আছে। স্থানীয় শিকারিরা শীতকালে বরফাবৃত সীমানায় যাতায়াতের জন্য এখনও ঐতিহ্যবাহী ‘গ্রিনল্যান্ডিক স্লেজ কুকুর’ ব্যবহার করেন। জাত অক্ষুণ্ণ রাখতে আর্কটিক সার্কেলের উত্তরে অন্য যেকোনো জাতের কুকুর আনা বেআইনি।
অতুলনীয় রোমাঞ্চকর আউটডোর অভিজ্ঞতা
আপনি ‘সেরমেক কুজালেক’ হিমবাহ (উত্তর গোলার্ধের সবচেয়ে সক্রিয় হিমবাহ) থেকে ভেসে আসা বিশাল হিমশৈল বা আইসবার্গের মধ্য দিয়ে ক্রুজ ভ্রমণ করুন কিংবা বিখ্যাত ১৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ 'আর্কটিক সার্কেল ট্রেইল'-এ হাইকিং করুন গ্রিনল্যান্ড প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য।
গ্রীষ্মকালে মিডনাইট সান বা নিশীথ সূর্যের নিচে সেখানকার তাপমাত্রা ১৮-২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে, যা ভ্রমণের জন্য বেশ মনোরম। অন্যদিকে শীতকাল নিয়ে আসে মেরু অঞ্চলের সম্পূর্ণ অন্ধকার আর নরদার্ন লাইটস বা মেরুজ্যোতির এক অনন্য রূপ।
গ্রিনল্যান্ডে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম সংরক্ষিত বনাঞ্চল ‘উত্তর-পূর্ব গ্রিনল্যান্ড জাতীয় উদ্যান’ এবং তিনটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। বন্যপ্রাণী, সেখানকার চমৎকার রঙিন বাড়ি কিংবা ঐতিহ্যবাহী ‘গ্রিনল্যান্ডিক কফি’ (হুইস্কি, কালুয়া, গ্র্যান্ড মার্নিয়ার ও কফির আগুনে পোড়ানো মিশ্রণ, যার ওপরে হুইপড ক্রিম থাকে) যা-ই উপভোগ করতে যান না কেন, আর্কটিকের এই গন্তব্য আপনাকে এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতার উপহার দেবে।
তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
শান্তি পুরস্কার নরওয়েতে দেওয়া হয়, অন্যান্য পুরস্কার সুইডেনে কেন?
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->প্রতিবছর নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সময় বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানী, লেখক এবং শান্তি কর্মীদের ওপর আলো এসে পড়ে। তবে একটি বিশেষ কারণে নোবেল শান্তি পুরস্কারটি অন্য সব ক্যাটাগরির থেকে আলাদা। অন্যান্য সব নোবেল পুরস্কার সুইডেনে দেওয়া হলেও, নোবেল শান্তি পুরস্কারের অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবেশী দেশ নরওয়েতে। এই পার্থক্যের মূল কারণ সুইডিশ উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছা, যিনি তার উইলের মাধ্যমে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারগুলো চালু করেছিলেন।
নোবেল পুরস্কার কোথায় কোথায় দেওয়া হয়?
পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, শারীরবিদ্যা বা চিকিৎসা এবং সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার সুইডেনের স্টকহোমে দেওয় হয়। পরবর্তীতে চালু হওয়া ‘আলফ্রেড নোবেলের স্মৃতিতে অর্থনীতিতে সুইডেন রিকসব্যাঙ্ক পুরস্কার’ বা অর্থনীতিতে নোবেলও সুইডেনের রাজধানীতেই দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয় হয় নরওয়ের অসলো সিটি হলে। প্রথা অনুযায়ী, ১৮৯৬ সালের ১০ ডিসেম্বর নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীকে স্মরণ করে প্রতিবছর এই দিনেই সবকটি পুরস্কার আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়। নোবেল পুরস্কারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ভিন্ন ভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠান আয়োজনের এই নিয়মটি নোবেলের উইলে উল্লিখিত নির্দেশনারই অংশ।
আলফ্রেড নোবেল কেন নরওয়েকে বেছে নিয়েছিলেন?
১৮৯৫ সালে স্বাক্ষরিত তার উইলে নোবেল স্পষ্ট করে লিখে গিয়েছিলেন যে, শান্তি পুরস্কারটির বিজয়ী নির্বাচন করবে নরওয়ের পার্লামেন্ট (যা ‘স্টোর্টিং’ নামে পরিচিত) দ্বারা গঠিত একটি কমিটি। অন্যদিকে, মূল বাকি পুরস্কারগুলোর দায়িত্ব তিনি দিয়েছিলেন সুইডিশ প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
তবে নোবেল কেন শান্তি পুরস্কারের দায়িত্ব নরওয়েজীয় কমিটির ওপর ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন, উইলে তার কোনো ব্যাখ্যা দিয়ে যাননি। এ কারণে ইতিহাসবিদরা একক কোনো নির্দিষ্ট উত্তরের বদলে বেশ কিছু সম্ভাব্য কারণ বিবেচনা করেন।
রাজনৈতিক ইউনিয়ন: নোবেলের জীবদ্দশায় নরওয়ে এবং সুইডেন একজন রাজার অধীনে একই ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯০৫ সালে নরওয়ে একটি স্বাধীন রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার আগ পর্যন্ত এই ইউনিয়ন বজায় ছিল।
শান্তিপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি: ১৮৯০-এর দশকে আন্তর্জাতিক বিবাদ শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তিতে নরওয়ের যে রাজনৈতিক আগ্রহ ছিল, তা-ও হয়তো নোবেলের এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল।
নোবেল শান্তি পুরস্কারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এই কারণগুলোকে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, এটি পরিষ্কার করা হয়েছে যে আসল কারণটি নিশ্চিতভাবে জানা নেই।
শান্তি পুরস্কার কি ভিন্নভাবে বাছাই করা হয়?
হ্যাঁ। নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নির্বাচন করে, আর অন্যান্য ক্যাটাগরির বিজয়ী নির্বাচন করে সুইডেনের পৃথক কিছু প্রতিষ্ঠান। এই কমিটিটি নরওয়ের পার্লামেন্ট কর্তৃক নির্বাচিত হয়, যদিও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কমিটির সদস্যরা স্বাধীনভাবে কাজ করেন।
তাই নোবেল শান্তি পুরস্কারের স্থান এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া উভয়ই আলফ্রেড নোবেলের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার প্রতিফলন, এটি পরবর্তীতে সুইডেন থেকে নরওয়েতে স্থানান্তরিত কোনো সিদ্ধান্ত নয়।
যদিও নোবেলের এই পছন্দের সঠিক কারণটি হয়তো কখনোই নিশ্চিতভাবে জানা যাবে না, তবুও তার উইল আজও বিশ্বের অন্যতম সেরা শান্তি পুরস্কার কোথায় প্রদান করা হবে তা নির্ধারণ করে চলেছে।
তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
নাম ও পেশা এক! আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নতুন চীনা দম্পতি
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
এক চীনা দম্পতি অনলাইন দুনিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন, যখন মানুষ জানতে পারে যে তাদের নাম হুবহু এক এবং তারা একই পেশায় কর্মরত। বিরল এই কাকতালীয় ঘটনাটি কিছুটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করলেও অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী বিষয়টিকে ভাগ্যের অপূর্ব লিখন বলে মনে করছেন।
৩৩ বছর বয়সি ঝু শিয়াওচং এবং ২৮ বছর বয়সি ঝু শিয়াওচং নামের এই নবদম্পতি গত ৬ অক্টোবর পূর্ব চীনের চচিয়াং প্রদেশে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
অনলাইনে এই দম্পতির বিয়ের পোস্টার শেয়ার করা হলে তা দ্রুত সবার নজর কাড়ে, কারণ বর ও কনে উভয়ের নামই হুবহু এক এবং নাম লেখার চীনা বর্ণগুলোও একই।
কনে প্রকাশ করেছেন যে তার বরের সঙ্গে যেসব আত্মীয়ের আগে থেকে পরিচয় ছিল না, তারা প্রথমে ভেবেছিলেন ওয়েডিং প্ল্যানার হয়তো ভুল করে একই নাম দুবার লিখেছেন।
এই কাকতালীয় বিষয়টি আরও বেশি নজর কেড়েছে কারণ এই দম্পতি উভয়েই সিভিল এভিয়েশন বা বেসামরিক বিমান চলাচল শিল্পে কাজ করেন। একই নাম হওয়ার পাশাপাশি একই ক্ষেত্রে চাকরি করার বিষয়টি তাদের এই গল্পকে নেটিজেনদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে, যেখানে অনেকে এই দম্পতির যৌথ জীবনকে একটি বিরল কাকতালীয় ঘটনা এবং একে অপরের জন্য তৈরি হওয়ার সুন্দর নিদর্শন বলে বর্ণনা করেছেন।
কিছু ব্যবহারকারী কৌতুক করে পরামর্শ দিয়েছেন যে, এই দম্পতির ভবিষ্যতে কোনো সন্তান হলে তাদের যৌথ নামের সঙ্গে মিলিয়ে শিশুটির নাম ‘চংচং’ রাখা যেতে পারে।
ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে তাদের এই গল্প ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে; অনেকেই এই ব্যতিক্রমী মিলনকে একাধারে মজাদার ও রোমান্টিক বলে আখ্যা দিয়েছেন। একই নাম হওয়ার কারণে মাঝেমধ্যে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হলেও, দম্পতির এই অভিজ্ঞতা একটি সাধারণ বিষয়কে এক অসাধারণ বিয়ের গল্পে রূপান্তর করেছে।
তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
যানজট এড়াতে আকাশে উড়ে কর্মস্থলে হাটজলার
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ পিএম
আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->কর্মস্থলে যাতায়াত বা যাতায়াতের সময়টা প্রায়শই যেকোনো কর্মদিবসের সবচেয়ে ক্লান্তিকর অংশ হয়ে দাঁড়ায়, কারণ ট্রাফিকে আটকে থাকা সময়টি আপনার মূল্যবান শক্তি শুষে নিতে পারে যে শক্তি অন্যথায় কোনো উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করা যেত। গণপরিবহন কিছুটা হলেও এই সমস্যার সমাধান করতে পারে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক ব্যক্তি ট্রাফিককে টেক্কা দিয়ে অফিসে পৌঁছানোর জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ব্যতিক্রমী এক উপায় খুঁজে পেয়েছেন তিনি আকাশে উড়ে অফিসে যান। গাড়ি চালানো বা বাসে ওঠার পরিবর্তে প্রফেশনে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার জ্যাকব হাটজলার প্যারামোটরে করে উড়ে মাত্র ২০ মিনিটে তার অফিসে পৌঁছে যান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে কলোরাডোর বাসিন্দা হাটজলার তার এই আকর্ষণীয় ও স্টাইলিশ যাতায়াত ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। এতে কোনো রানওয়ের প্রয়োজন হয় না; কেবল উড্ডয়নের প্রতি ভালোবাসা এবং ভিন্ন পথ বেছে নেওয়ার কিছুটা সাহসের প্রয়োজন হয়।
হাটজলার বলেন, ‘একজন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার হিসেবে আমি যেভাবে প্যারামোটরে করে কাজে যাই প্যারামোটর মূলত একটি ব্যাকপ্যাক প্রোপেলার যুক্ত প্যারাগ্লাইডার। পিঠে একটি মোটর ও প্রোপেলার বেঁধে নিয়ে দৌড়ে টেক-অফ করতে হয় এবং আকাশে উড়তে হয়।’
তিনি আরও জানান, আমি ওজোনের 'Sirocco 3 18m' উইংয়ের সঙ্গে যুক্ত 'Parajet Maverick' মডেলের প্যারামোটরটি উড়াচ্ছি। প্যারাজেট ম্যাভেরিক চমৎকার একটি সেটআপ এবং সিরোকো ৩ আমাকে গতি, কর্মক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণের এক দারুণ মেলবন্ধন এনে দেয়।
পুরো প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করতে গিয়ে হাটজলার জানান, তিনি প্রথমে তার অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের সামনের রাস্তায় হেঁটে যান, এরপর তার গ্লাইডার উইংটি সেটআপ করেন এবং উড্ডয়নের আগে মোটরটি পরীক্ষা করে নেন।
হাটজলার বলেন, ‘টাওয়ার পর্যন্ত যেতে আকাশপথে সময় লাগে মাত্র ২০ মিনিট। তবে ক্লাস ডেল্টা এরিয়াতে প্রবেশের আগেই আমাকে টাওয়ারের সঙ্গে দ্বি-মুখী যোগাযোগ স্থাপন করতে হয়।
আকাশে তিনি এবং মেঘ ছাড়া আর কেউ নেই বিষয়টি উল্লেখ করে হাটজলার জানান, এরপর তিনি টাওয়ারে তার সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ল্যান্ড করার জন্য বিমানবন্দরের দক্ষিণে একটি লো-অ্যাপ্রোচ বা নিচু দিয়ে অবতরণের অনুমতি চান।
টাওয়ার থেকে উত্তর আসে, প্যারামোটর পাপা জুলিয়েট, অনুরোধ অনুযায়ী অনুমতি দেওয়া হলো। নিজ ঝুঁকিতে অবতরণ করুন। বাতাস শান্ত আছে, সতর্ক থাকুন। এই বার্তার পর তিনি বেশ সুচারুভাবেই ল্যান্ড করেন।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওটি ১ কোটি ৩৫ লাখেরও বেশিবার দেখা হয়েছে এবং হাজার হাজার কমেন্ট এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা হাটজলারের এই যাতায়াত ব্যবস্থা দেখে বেশ মুগ্ধ ও ঈর্ষান্বিত হয়েছেন।
এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ‘ভাই, এটা সত্যিই খুব দারুণ এবং অসাধারণ!’
অন্য একজন যোগ করেছেন, ‘অফিসে যাওয়ার জন্য দেখা আমার জীবনের সবচেয়ে সেরা যাতায়াত মাধ্যম এটি। আমারও যদি একইভাবে অফিসে যাওয়ার সুযোগ থাকত!’
তৃতীয় একজন লিখেছেন, ‘আমি ভাবছিলাম আমাদের এলাকায় এটি কখনোই সম্ভব না, কারণ এখানে প্রচণ্ড বাতাস থাকে। কিন্তু ঠিক পরেই আপনাকে আমাদের এলাকার ওয়াটার টাওয়ারের পাশ দিয়ে উড়ে যেতে দেখলাম, আমার ধারণাকে ভুল প্রমাণ করার জন্য ধন্যবাদ।’
চতুর্থ একজন বলেন, ‘আমি ধরে নিচ্ছি ঝড়-বৃষ্টির সময় নিশ্চয়ই এভাবে ওড়া যায় না। তবে সত্যি বলতে, আইনিভাবে এভাবে ওড়ার অনুমতি মানুষ কীভাবে পায়? স্থানীয় কর্মকর্তারা বিষয়টিতে খুব একটা সন্তুষ্ট হবেন বলে তো মনে হয় না।’
তামান্না রুপা/
