প্রতিরোধমূলক দন্তচিকিৎসাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, দাঁত ও মুখগহ্বরের রোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। নিয়মিত দন্ত পরীক্ষা, সঠিক পরিচর্যা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির রোগসহ মুখগহ্বরের বিভিন্ন সমস্যা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ জন্য দন্তচিকিৎসাকে শুধু চিকিৎসাকেন্দ্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নগরীর হোটেল আগ্রাবাদের কর্ণফুলী হলে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিটের ফাউন্ডেশন ডে উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন।
- Advertisement -
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক। সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দাঁত ও মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য সামগ্রিক স্বাস্থ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির প্রদাহ ও মুখগহ্বরের বিভিন্ন রোগ মানুষের স্বাভাবিক খাদ্যগ্রহণ, পুষ্টি এবং জীবনযাত্রার মানকে প্রভাবিত করে। অথচ নিয়মিত পরিচর্যা, স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের মাধ্যমে এসব সমস্যার অনেকটাই প্রতিরোধ করা যায়। তাই শিশুদের ছোটবেলা থেকেই দাঁতের যত্ন সম্পর্কে সচেতন করে তোলা এবং পরিবার পর্যায়ে নিয়মিত মুখের স্বাস্থ্য পরিচর্যার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দিনে দুইবার ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা, দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার রাখা, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয় গ্রহণ কমানো এবং নিয়মিত দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া দাঁতের সুস্থতা বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ উপায়। দাঁতে ব্যথা শুরু হওয়ার পর চিকিৎসা নেওয়ার পরিবর্তে রোগের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করা এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য প্রতিরোধমূলক দন্তস্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা জরুরি।
মেয়র আরও বলেন, মুখগহ্বরের ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণ শনাক্তকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুখে দীর্ঘদিনের ঘা, অস্বাভাবিক সাদা বা লাল দাগ কিংবা অন্য কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তামাক ও তামাকজাত পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রেও দন্তচিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের প্রশংসা করে মেয়র বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামসহ বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এই মেডিকেল কলেজের অধীনে পরিচালিত ডেন্টাল ইউনিটও মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতির প্রয়োগ এবং দক্ষ দন্তচিকিৎসক তৈরির মাধ্যমে সেই সুনামের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে দন্তচিকিৎসায় আধুনিক প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার গুরুত্ব বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের শুধু চিকিৎসা প্রদানের কারিগরি দক্ষতা অর্জন করলেই হবে না; রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যশিক্ষা এবং কমিউনিটিভিত্তিক সেবার ক্ষেত্রেও দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের মধ্যে দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে দন্তস্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে মানুষের ভীতি ও অবহেলা দূর করার পাশাপাশি সেবার আওতা আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল নগরবাসীর চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। হাসপাতালের অন্যতম প্রকল্প ক্যানসার হাসপাতাল ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসাসেবায় সুনাম অর্জন করেছে। ডেন্টাল ইউনিটও মানসম্মত শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা.অসীম কুমার বড়ুয়া। ডেন্টাল ইউনিটের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও কার্যক্রম তুলে ধরেন ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল হাসান। এ সময় বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ও হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ রেজাউল করিম আজাদ, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন মানিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সুলতানা রুমা আলম, চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আকরাম পারভেজ, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আলি হোসেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান ডা. মনোজ কুমার বড়ুয়া, দৈনিক আজাদীর চিফ রিপোর্টার হাসান আকবর, চট্টগ্রাম ক্লাব লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দুল আনোয়ার ফরহাদ, হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল মান্নান রানা, জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি (ডোনার) মো. শহীদ উল্লাহ, জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি মো. জাহিদুল হাসান, অর্গানাইজিং সেক্রেটারি মোহাম্মদ সাগীর, ডোনার সদস্য মো. হারুন ইউছুফ, সদস্য তারিকুল ইসলাম তানভীর, মো. সাইফুল আলম, অধ্যাপক ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী, ডা. মো. ইউসুফ, পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. মহিউদ্দিন এবং উপপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইনসহ হাসপাতাল ও বিভিন্ন চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
