এ যেন ঠিক নয়ের দশকের মায়ানগরী। যখন অন্ধকার জগতের ডন-গ্যাংস্টারদের দাপটে কাঁপত গোটা মুম্বই। বিগত কয়েক বছরে কখনও সলমন খান, রণবীর সিং, আবার কখনও বা রোহিত শেট্টিদের ‘টার্গেট’ করে সেই অভিশপ্ত পর্বের স্মৃতি উসকে দিয়েছে বিষ্ণোই গ্যাং। সম্প্রতি টাইগার শ্রফের উপর হামলা চালিয়ে ফের চর্চায় বিষ্ণোইরা। টাইগার কাণ্ডে ইতিমধ্যেই দশজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর ওই অভিযুক্তদের জেরা চালিয়েই যে বিস্ফোরক তথ্য মিলেছে, তাতে চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড় পুলিশ প্রশাসনের!
অতীতেও সলমন ঘনিষ্ঠদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়েছে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। তার মধ্যে অন্যতম চব্বিশ সালে দশেরার রাতে ভাইজান ঘনিষ্ঠ এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিকীর খুনের ঘটনা।
অভিযুক্তদের জেরা করে নিত্যনতুন তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। কেন টাইগার শ্রফের উপর হামলা চালানো হল? পুলিশি প্রশ্নের মুখে এক অভিযুক্ত জানিয়েছে, ২০২২ সালে একটি সিনেমার প্রচারানুষ্ঠানে টাইগার শ্রফ সলমন খানের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। ‘বজরঙ্গি ভাইজান’-এর উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, “আমাদের হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে একমাত্র ‘টাইগার’ (বাঘ) হলেন সলমন।” টাইগার শ্রফের উপর হামলা চালানোর এটাই নাকি অন্যতম বড় কারণ। অতীতেও সলমন ঘনিষ্ঠদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়েছে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। তার মধ্যে অন্যতম চব্বিশ সালে দশেরার রাতে ভাইজান ঘনিষ্ঠ এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিকীর খুনের ঘটনা। এবার বছর চারেক আগে সলমনের প্রশংসা করার মাশুল গুনতে হল জ্যাকি শ্রফপুত্র টাইগারকে।
১১ অক্টোবর ওই দুই হামলাকারী জুহুর সেই ফুটবল মাঠেও যায় যেখানে টাইগার শ্রফ নিয়মিত খেলেন। তবে এই গত একমাসে শুধু জ্যাকিপুত্র নন, বিষ্ণোইরা রেইকি চালিয়েছিল সলমন খান, রণবীর কাপুর এবং আমির খানের বাড়িতেও।
টাইগার শ্রফ হামলা কাণ্ডে গত সোমবারই কোটা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজস্থান পুলিশ। বুধবারই ফের দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার হয় আরও ক’জন। পুলিশি সূত্রে খবর, এদের মধ্যে দু’জন অভিনেতার উপর হামলা চালানোর আগে প্রায় এক মাস মুম্বইতে ছিল। ২ লক্ষ টাকা খরচ করে দাদরের বিভিন্ন এলাকায় লজ বদলে থেকেছে। এমনকী একটি বাজাজ পালসার মোটরবাইকও কিনেছিল। ১১ অক্টোবর ওই দুই হামলাকারী জুহুর সেই ফুটবল মাঠেও যায় যেখানে টাইগার শ্রফ নিয়মিত খেলেন। তবে এই গত একমাসে শুধু জ্যাকিপুত্র নন, বিষ্ণোইরা রেইকি চালিয়েছিল সলমন খান, রণবীর কাপুর এবং আমির খানের বাড়িতেও। তিন অভিযুক্ত ফুল সিং, রেহান আনসারি এবং তাদের সহযোগী ঋত্বিক কুমার ওরফে রোশন রামু মাহাতোকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে যে, টাইগার শ্রফ আসলে এই গ্যাংয়ের মূল লক্ষ্য ছিলেন না। তবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় তাঁকেই হামলার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল। জেরার মুখে তারা এও জানিয়েছে যে, নিশানায় অন্য এক তারকা থাকলেও, তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আঁটসাঁট হওয়ায় তাঁর উপর হামলা চালানোর ছক বানচাল করে বিষ্ণোইরা। তবে পুলিশি জেরার মুখে এবার এক অভিযুক্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে নিয়ে এলেন।
