Published on
:
2 min read
কলকাতার আকাশ-বাতাসে যখন ঢাকের আওয়াজ আর দুর্গাপুজোর আনন্দ, তখনই আরব সাগরের তীরে গোয়ার ফতোরদা স্টেডিয়ামে লাল-হলুদের উৎসবের রোশনাই ছড়িয়ে দিলেন আন্তোনিও লোপেজ় হাবাসের শিষ্যরা। ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (ISL) ২০২৬-২৭ মরশুমের উদ্বোধনী ম্যাচে দাপুটে ফুটবল উপহার দিয়ে ঘরের দল চার্চিল ব্রাদার্সকে গোলের বন্যায় ভাসিয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল। ফতোরদা স্টেডিয়ামে রবিবার সন্ধ্যায় প্রতিপক্ষকে ৪-০ ব্যবধানে পর্যুদস্ত করে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নের মতোই অভিযান শুরু করল লাল-হলুদ ব্রিগেড।
গোয়ান ক্লাবের ঘরের মাঠে সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু ম্যাচ শুরুর মাত্র দুই মিনিটেই লাল জার্সিধারীদের স্তব্ধ করে দেয় ইস্টবেঙ্গল। মাঝমাঠে রশিদ ও দানি রামিরেজ়ের যুগলবন্দির পর বক্সের ঠিক বাইরে ফাউল পান রামিরেজ়। সেই ফ্রি-কিক থেকে বাঁ-পায়ের চোখধাঁধানো কার্লিং শটে চার্চিল কিপার সায়াদকে পরাস্ত করে বল টপ কর্নারে জড়িয়ে দেন এই স্প্যানিশ তারকা।
পিছিয়ে পড়ার পর চার্চিল ম্যাচে ফেরার জন্য একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে। ১৭ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি পায় তারা। লেকের পাস থেকে ওকোলির বুলেট গতির শট বারে লেগে ফিরে এলে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় চার্চিল। এরপর ৪২ মিনিটে গুতিয়েরেস ইস্টবেঙ্গলের ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে বল সাজিয়ে দিয়েছিলেন লেকের পায়ে, কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে ফাঁকা গোল পেয়েও বল পোস্টের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন তিনি।
ফিনিশিংয়ের খেসারত দিতে চার্চিলকে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। প্রথমার্ধের অন্তিম মুহূর্তে (৪৫ মিনিট) প্রতি-আক্রমণে ওঠে ইস্টবেঙ্গল। বাঁ-দিক থেকে ডেভিড বল নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে বল বাড়ান ফাঁকায় থাকা এডমুন্ড লালরিন্ডিকাকে। তিনি বুদ্ধি খাটিয়ে বিপক্ষের ডিফেন্ডার ও গোলকিপারকে কাটিয়ে প্রথম টাচেই জোরালো শটে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলের সন্ধানে চার্চিল হাই ডিফেন্সে খেলতে শুরু করেন। আর এখানেই বুদ্ধিতে বাজিমাত করলেন হাবাস। মাঝমাঠ থেকে ব্যাকলাইনে নেমে পাঁচ ডিফেন্ডারের প্রাচীর গড়ে তোলেন লাল-হলুদ ফুটবলাররা। AFC ম্যাচে সমালোচনার মুখে পড়া ক্রোট সেন্টার-ব্যাক দিয়েগো জ়িভুলিচ চার্চিলের প্রধান অস্ত্র গুতিয়েরেসকে বোতলবন্দি করে রাখেন। তাঁকে যোগ্য সংগত দেন আনোয়ার আলি ও জয় গুপ্তা।
প্রথম গোলের পর সেলিব্রেশনছবি: East bengal fc
৭৮ মিনিটের পর হাবাস মাঠে নামান বিপিন সিংকে। এরপরই শুরু হয় বিপিনের তাণ্ডব। ৮৫ মিনিটে একে লোবার ব্যাক-পাস ধরে চার্চিল ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ-পায়ের জোরালো শটে বল জড়িয়ে দেন জালে (৩-০)। ম্যাচ তখন পুরোপুরি ইস্টবেঙ্গলের মুঠোয়। চার মিনিট পর, ৯০ মিনিটের মাথায় বাঁ-প্রান্ত দিয়ে একক দক্ষতায় ড্রিবল করে মাপা ক্রস বাড়ান তরুণ উইঙ্গার পিভি বিষ্ণু। সেই পাসে আলতো টোকা দিয়ে বল জালে ঠেলে নিজের জোড়া গোল সম্পূর্ণ করেন বিপিন এবং স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-০।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই নিশ্চিত হয়ে যায়—ডুরান্ড কাপ ও আইএফএ শিল্ডের কঠিন অনুশীলন বৃথা যায়নি। মরশুমের প্রথম ম্যাচেই ৪-০ গোলের বিরাট জয় ও ক্লিনশিট পেয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষস্থানের সঙ্গে পুজোয় কোটি কোটি লাল-হলুদ সমর্থকদের মুখে চওড়া হাসি ফোটাল ইস্টবেঙ্গল এফসি। সবচেয়ে পজিটিভ বিষয় হলো, অতীতে কোনও ISL এই দাপটের সঙ্গে শুরু করতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। IFA শিল্ড ফাইনাল, ACL ২-তে দুবার এগিয়ে গিয়েও হারের পর ইস্টবেঙ্গলের এই কামব্যাকটা দরকার ছিল।
