শিশুর প্রকৃত শিক্ষা শুরু হয় তার পরিবার থেকে। ঘর কেবল প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রই নয়; বরং শিশুর জন্য আগামী দিনের বিস্তীর্ণ জায়গায় নিজেকে মেলে ধরার প্রস্তুতিপর্বের আদর্শ বিদ্যালয়। পরিবারে শিশুর যথাযথ শিক্ষণের জন্য অভিভাবক হিসেবে বাবা-মায়ের দায়িত্ব অপরিসীম। আমাদের দেশে কোনো কোনো বাবা-মা শুধু সন্তানের স্বাস্থ্য ও খাওয়া-দাওয়া নিয়ে চিন্তা করেন। আবার কেউ কেউ শুধু সন্তানের পড়ালেখা নিয়ে অতি ব্যস্ত থাকেন। যেমন: সকালে শিক্ষক, সারা দিন স্কুল, বিকেলে কোচিং, রাতে আরেক শিক্ষক ইত্যাদি। অনেকে আবার সন্তানের কোনো বিষয়েরই খোঁজখবর নেন না, কিন্তু পরীক্ষায় ফল খারাপ হলেই শুরু করেন মারধর, শাস্তি ইত্যাদি। তারপরও সব বাবা-মা মনে করেন, তারা ‘সন্তানের ভালো চান’! তারা সন্তানকে খুব ভালোবাসেন! অথচ আদর্শ বাবা-মায়ের বৈশিষ্ট্য কখনোই এমন হতে পারে না।
সন্তানের সুস্থতা ও সুন্দর বিকাশে ‘গুড প্যারেন্টিং’-এর কিছু বিষয় নিয়ে খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সিদ্ধেশ্বরী কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। তার ভাষ্যে–‘সন্তানকে নিয়ে আমাদের প্রত্যাশার শেষ নেই। সে ভালো পড়বে, সময়মতো ঘুমাবে, মোবাইল কম দেখবে, বড়দের কথা শুনবে–আর এসবের পাশাপাশি হাসিখুশিও থাকবে। কিন্তু দিনের শেষে যখন অফিসের ক্লান্তি, ঘরের কাজ, বাজার-সদাই আর নানা দুশ্চিন্তা একসঙ্গে ভর করে, তখন ধৈর্য ধরে সন্তানের কথা শোনা সব সময় হয়ে ওঠে না। কখনো অকারণে বকাঝকা করি, কখনো অন্যের সন্তানের সঙ্গে তুলনা করি, আবার কখনো নিজের ব্যস্ততার কারণে তার ছোট্ট অভিমানটাও খেয়াল করি না। অভিভাবক হিসেবে এসব অভিজ্ঞতা অস্বাভাবিক নয়। ভালো অভিভাবক হওয়া মানে কখনো রাগ না করা বা কখনো ভুল না করা নয়, বরং ভুল হলে তা বুঝতে পারা, সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করার চেষ্টা করা এবং প্রতিদিনের ছোট ছোট আচরণে তাকে নিরাপত্তা দেওয়াই ভালো অভিভাবকত্বের বাস্তব চর্চা।’
সন্তানের কথা মন দিয়ে শুনুন
সন্তান কিছু বলতে এলে সঙ্গে সঙ্গে উপদেশ বা বকুনি না দিয়ে আগে শুনুন। তার সমস্যা বড়দের কাছে ছোট মনে হলেও শিশুর কাছে সেটিই হয়তো দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। প্রতিদিন অনেক সময় না হলেও অন্তত কিছুক্ষণ ফোন বা টিভি সরিয়ে রেখে তার কথা শুনুন। সঙ্গে সঙ্গে সমাধান না দিয়ে আগে জিজ্ঞেস করুন, ‘তোমার কেমন লেগেছে?’
আরও পড়ুন
ক্লান্তি বা রাগের সময় সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো
অফিস থেকে ফিরে ঘরে বিশৃঙ্খলা, পড়ালেখার বদলে সন্তানের হাতে মোবাইল ফোন দেখলে বাবা-মায়ের বিরক্ত হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু রাগের মুহূর্তে বলা কঠিন কথা সন্তানের মনে থেকে যেতে পারে। সম্ভব হলে একটু থামুন, পানি পান করুন, তারপর কথা বলুন। সন্তানকে বলতে পারেন, ‘আমি এখন খুব ক্লান্ত। একটু পরে শান্ত হয়ে তোমার সঙ্গে কথা বলব।’ এতে বাবা-মা নিজের রাগ সামলানোর সময় পান।
ভুল ধরিয়ে দিন, কিন্তু অপমান করবেন না
ভুল করলে সন্তানের সঙ্গে আচরণ নিয়ে কথা বলুন, তার ব্যক্তিত্বকে আক্রমণ করবেন না। ‘তুমি খারাপ’ বলার বদলে বলা যায়, ‘তোমার এই কাজটি ঠিক হয়নি–এখন কীভাবে ঠিক করা যায়, ভাবি।’ ভয় সাময়িকভাবে সন্তানের কোনো আচরণ থামাতে পারে; কিন্তু বোঝাপড়া দীর্ঘ মেয়াদে দায়িত্ববোধ তৈরি করে। হোমওয়ার্ক না করলে বা কোনো জিনিস ভেঙে ফেললে সন্তানের সঙ্গে তা নিয়ে কথা বলুন; তাকে ‘অলস’, ‘অমনোযোগী’ বা ‘কিছুই পারো না’ বলবেন না। বলা যেতে পারে, ‘পড়াটা শেষ হয়নি–কী কারণে হলো না, সেটা বলো। এখন কীভাবে শেষ করা যায় দেখি।’ এতে সমস্যা আড়াল করার বদলে সমাধানের অভ্যাস তৈরি হয়।
আরও পড়ুন
নিয়ম মেনে চলা
প্রতিটি পরিবারে একই নিয়ম কাজ করে না। কারও সন্তানের স্কুলের সময় আলাদা, কারও অভিভাবককে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকতে হয়। তাই অন্যের পরিবারের নিয়ম হুবহু অনুসরণ না করে নিজের পরিবারের জন্য বাস্তবসম্মত সময়সূচি করুন। যেমন: পড়ার সময়, ঘুমের সময় এবং মোবাইল ফোন ব্যবহারের সীমা। নিয়ম বারবার বদলালে শিশুর পক্ষে তা মানা কঠিন হয়।
মোবাইল ব্যবহার নিয়ে শুধু নিষেধ নয়, বোঝাপড়া করুন
‘মোবাইল বন্ধ করো’ বলেই বিষয়টি শেষ হয় না–বিশেষ করে বড়রা নিজেরাও যদি সারাক্ষণ ফোনে থাকেন। কখন, কতক্ষণ এবং কী ধরনের বিষয় দেখা যাবে, তা নিয়ে সন্তানের সঙ্গে কথা বলুন। খাওয়ার সময় বা ঘুমানোর আগে পরিবারের সবার জন্য ফোন না ব্যবহারের নিয়ম করা যেতে পারে। নিয়মটি শুধু সন্তানের জন্য হলে সে তা অন্যায্য মনে করতে পারে।
আরও পড়ুন
পড়াশোনায় পাশে থাকুন
পরীক্ষার আগে সন্তান পড়েনি বলে শেষ রাতে অভিভাবকেরও অস্থির হয়ে পড়া পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু প্রতিবার তার হয়ে ব্যাগ গুছিয়ে দেওয়া, কাজ মনে করিয়ে দেওয়া কিংবা উত্তর বলে দেওয়া তাকে দায়িত্বশীল হতে শেখায় না। ছোটবেলা থেকে নিজের বই গোছানো, পরদিনের কাজ দেখে নেওয়া–এ ধরনের কাজ ধীরে ধীরে তার হাতে দিন। ভুল হলে বকাঝকা না করে পরের বার কীভাবে মনে রাখা যায়, তা ভাবুন।
তুলনা না করে তার নিজের অগ্রগতি দেখুন
‘সে তো এত ভালো করে’, ‘পাশের বাসার শিশুটি কত শান্ত’–এ ধরনের কথা হয়তো উৎসাহ দেওয়ার জন্য বলা হয়, কিন্তু সন্তান প্রায়ই এতে নিজেকে ছোট মনে করে। তার আগের অবস্থার সঙ্গে তুলনা করুন। গতবার যে কাজটি পারেনি, এবার সেটিতে চেষ্টা করেছে কি না, সেটিও প্রশংসার বিষয়।
ওর মতো হও- না বলা
‘ওর মতো হও’ ধরনের তুলনা শিশুর মনে হীনম্মন্যতা বা বিরক্তি তৈরি করতে পারে, বরং তার নিজের আগের অবস্থার সঙ্গে তুলনা করুন–কোন জায়গায় সে উন্নতি করেছে, আর কোথায় আরও চেষ্টা দরকার।
সন্তানকে দায়িত্ব দিন
নিজের খেলনা গোছানো, খাবারের থালা নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা, স্কুলের ব্যাগ দেখে নেওয়া–এসব ছোট দায়িত্ব শিশুকে পরিবারের অংশ বলে অনুভব করায়। কাজটি নিখুঁত না হলেও সঙ্গে সঙ্গে তার হাত থেকে কেড়ে নিয়ে নিজে করে দেবেন না। ধৈর্য ধরে শেখান।
বড়দেরও ক্ষমা চাইতে শেখা দরকার
কখনো রাগের মাথায় বেশি বকে ফেললে পরে সন্তানের কাছে বলা যায়, ‘তোমার কাজটি ঠিক হয়নি, কিন্তু আমি যেভাবে কথা বলেছি সেটাও ঠিক হয়নি।’ এতে সন্তানের ওপর কর্তৃত্ব কমে যায় না; বরং সে শেখে যে, ভুল করলে তা স্বীকার করে সম্পর্ক মেরামত করা যায়।
পাশে থাকা
একসঙ্গে বাজারে যাওয়া, রান্নার সময় ছোট কাজে সাহায্য করতে দেওয়া, ছুটির দিনে হাঁটা বা ঘুমের আগে কয়েক মিনিট গল্প করা–এসব সাধারণ মুহূর্তও সম্পর্ক গড়ে তোলে। সব সময় ঘুরতে যাওয়া বা উপহার দেওয়া সম্ভব নয়; কিন্তু মনোযোগ দিয়ে পাশে থাকা অনেক সময় সন্তানের কাছে বেশি মূল্যবান।
সন্তানের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন
সন্তান কাঁদলে বা রাগ করলে তাকে থামাতে ‘কাঁদবে না’ বলার বদলে তার অনুভূতিটা বুঝতে চেষ্টা করুন। তবে অনুভূতি বোঝা মানে সব দাবি মেনে নেওয়া নয়। শান্তভাবে বলা যায়, ‘তুমি খেলনাটি না পেয়ে কষ্ট পেয়েছ বুঝতে পারছি, কিন্তু আজ এটি কেনা হবে না।’ এতে স্নেহের পাশাপাশি সীমারেখাও বজায় থাকে।
সবকিছু নিখুঁত হওয়ার দাবি রাখবেন না
কখনো ব্যস্ততায় সন্তানের কথা শোনা হয় না, কখনো পরিকল্পনা ভেস্তে যায়, কখনো ধৈর্য কমে যায়। একটি খারাপ দিন মানেই কেউ খারাপ অভিভাবক নন। গুরুত্বপূর্ণ হলো, ভুলের পর সন্তানের সঙ্গে কথা বলা, প্রয়োজন হলে দুঃখ প্রকাশ করা এবং পরের বার একটু ভালো করার চেষ্টা করা।
ভালোবাসা প্রকাশ করুন
‘তোমাকে ভালোবাসি’, ‘তুমি চেষ্টা করেছ, এটা ভালো লেগেছে’–এ ধরনের কথা সন্তানকে নিরাপত্তা ও আত্মবিশ্বাস দেয়। শুধু ভালো ফল বা সাফল্যের সময় নয়, সাধারণ দিনেও স্নেহ প্রকাশ করা জরুরি।
চেষ্টারও প্রশংসা করুন
সব শিশু একই গতিতে শেখে না। নম্বর বা পুরস্কারের পাশাপাশি চেষ্টা, ধৈর্য, সততা ও অন্যকে সাহায্য করার মতো গুণের প্রশংসা করুন। এতে সন্তান বুঝবে, তার মূল্য শুধু পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করে না।
সন্তানকে নিজের স্বপ্নের প্রকল্প বানাবেন না
অভিভাবকের প্রত্যাশা থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু সন্তানের আগ্রহ, সামর্থ্য ও পছন্দেরও গুরুত্ব আছে। তাকে উৎসাহ দিন, পথ দেখান–তবে তার জীবন বেছে দেবেন না।
সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন আরও বলেন, ‘সন্তানকে বড় করার কোনো নির্ভুল নির্দেশিকা নেই। প্রত্যেক শিশুর স্বভাব আলাদা, আর প্রত্যেক পরিবারের সামর্থ্য ও পরিস্থিতিও আলাদা। তবে একটি বিষয় প্রায় সব ক্ষেত্রেই সত্য–সন্তানের জন্য অভিভাবকের নিখুঁত হওয়ার দরকার নেই; দরকার নির্ভরযোগ্য হওয়া। যে সন্তান জানে, ভুল করলে তাকে অপমান করা হবে না, কথা বলতে চাইলে কেউ শুনবে এবং প্রয়োজনে তাকে সীমা বুঝিয়ে দেওয়া হবে–সে পরিবারে নিরাপদ বোধ করে। আর সেই নিরাপত্তা গড়ে ওঠে বড় কোনো উপদেশে নয়, প্রতিদিনের ছোট ছোট আচরণে।’
গুড প্যারেন্টিং নিয়ে কথা হলো রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক আক্তার জাহান সুমির সঙ্গে। তিনি গুড প্যারেন্টিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ ১০ বিষয় জানালেন।
• মনে রাখতে হবে, শিশুরা ছোটদের মতোই আচরণ করবে।
• দোষারোপ করে নয়, মর্যাদা বজায় রেখে সীমা নির্ধারণ করুন।
• শিশুর বেড়ে ওঠার ধাপগুলো সম্পর্কে সচেতন হোন।
• আপনার শিশুর ব্যক্তিত্ব ও মেজাজ-মর্জি সম্পর্কে বুঝতে চেষ্টা করুন।
• শিশুকে নিজের ইচ্ছামতো খেলাধুলা করার জন্য প্রচুর সময় দিন।
• কখন আপনি কথা বলবেন আর কখন তাকে কথা বলতে দেবেন, সেটা জেনে রাখুন।
• সন্তানের মা বা বাবা ছাড়াও আপনার যে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় আছে, তা তাকে বুঝতে দিন।
• মনে রাখুন, কিছু বলার চেয়ে করে দেখানোটা শিশুর কাছে অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করে।
• শিশুর মধ্যে ইতিবাচক আচরণ ও সহযোগিতার মনোভাব গড়ে ওঠার জন্য দরকার সঠিক যোগাযোগ, আনন্দময় পরিবেশ এবং সৃষ্টিশীলতা।
• শিশুর সঠিক আচরণের পাশাপাশি সঠিক হৃদয়বৃত্তি গড়ে তোলার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করুন।
শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সাইকিয়াট্রি বিভাগের প্রধান এবং আলোক হেলথকেয়ারের কনসালট্যান্ট মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. জিল্লুর রহমান খান খবরের কাগজকে বলেন, ‘গুড প্যারেন্টিং’ বা ‘ইতিবাচক সন্তান প্রতিপালন’ কোনো নিখুঁত নিয়ম মেনে চলা নয়, বরং সন্তানের মানসিক, সামাজিক ও আবেগীয় বিকাশের জন্য একটি সুরক্ষিত পরিবেশ তৈরি করা। একজন আদর্শ অভিভাবক হতে হলে সন্তানকে শাসন ও ভালোবাসার মাঝে ভারসাম্য রেখে বড় করতে হয়।
গুড প্যারেন্টিংয়ের মূল ভিত্তিগুলো হলো–
ইতিবাচক প্যারেন্টিং স্টাইল
সন্তান প্রতিপালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হলো অথরিটেটিভ বা স্নেহশীল ও দৃঢ় সীমারেখাভিত্তিক অভিভাবকত্ব।
বৈশিষ্ট্যএই পদ্ধতিতে বাবা-মা সন্তানের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ও সংবেদনশীল হন, তবে একই সঙ্গে সন্তানের আচরণের সুনির্দিষ্ট সীমা ও নিয়ম নির্ধারণ করে দেন।
সুফল
এটি শিশুর আত্মবিশ্বাস, স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে।
গুণগত সময় এবং ‘স্পেশাল টাইম’ প্রতিদিন কিছুটা সময় সন্তানের সঙ্গে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে কাটানো তার শেখা, আবেগীয় বিকাশ ও অভিভাবকের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করতে সহায়ক হতে পারে।
আবেগের স্বীকৃতি ও মানসিক সহযোগিতা
সন্তানের যেকোনো আবেগ–তা রাগ, ভয় বা দুঃখ যাই হোক না কেন, তাকে অবহেলা না করে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।
• সন্তানকে বোঝাতে হবে যে মন খারাপ হওয়া বা ভয় পাওয়া স্বাভাবিক।
• বাবা-মা নিজেরাও মানসিক চাপে থাকলে তা সন্তানের উপযোগী সহজ ভাষায় প্রকাশ করতে পারেন। এতে সন্তান বুঝতে পারে যে কঠিন আবেগ মোকাবিলা করা জীবনেরই অংশ।
নিজের আচরণ দিয়ে উদাহরণ তৈরি করা
শিশুরা উপদেশ শোনার চেয়ে বাবা-মাকে দেখে বেশি শেখে। আপনি সন্তানের মধ্যে যে গুণগুলো দেখতে চান (যেমন: ধৈর্য, সততা বা রাগ নিয়ন্ত্রণ), তা প্রথমে নিজের আচরণে প্রকাশ করুন। কোনো ভুল হলে সন্তানের কাছে নিঃসংকোচে ক্ষমা চেয়ে নেওয়াও একটি বড় শিক্ষা।
শারীরিক ও মানসিক সুরক্ষার সীমানা
গুড প্যারেন্টিং মানে সন্তানকে অতিরিক্ত ছাড় দেওয়া নয়, বরং সন্তানের বয়স অনুযায়ী একটি দৈনিক রুটিন এবং আচরণগত সীমাবদ্ধতা বা রুলস ঠিক করে দেওয়া জরুরি। এই নিয়মগুলো প্রয়োগের ক্ষেত্রে বাবা-মাকে ধারাবাহিক হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গুড প্যারেন্টিং শিশুর মানসিক সুস্থতায় সহায়ক হলেও সব মানসিক স্বাস্থ্যসমস্যা প্রতিরোধ করতে পারে না। মানসিক সমস্যার পেছনে জৈবিক, জিনগত, মনস্তাত্ত্বিক ও পরিবেশগত নানা কারণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই সন্তান কোনো আচরণগত বা মানসিক জটিলতায় ভুগলে অপরাধবোধে না ভুগে দ্রুত কোনো মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সহায়তা নেওয়া উচিত।
