ছবির ক্যাপশন: .
বিশেষ সংবাদদাতা :
বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, সাবেক মন্ত্রী, ডাকসুর সাবেক ভিপি এবং ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দেশকে সবুজে আচ্ছাদিত করতে এ কর্মসূচিতে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত হতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কেরানীগঞ্জের শাক্তা ও বাস্তা ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষ ও ফলজ চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমান উল্লাহ আমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসায় পর্যায়ক্রমে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়নে প্রশাসকের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বৃক্ষ ও ফলজ চারা বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, “বৃক্ষ আমাদের প্রাণ ও জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একটি গাছ শুধু পরিবেশ রক্ষা করে না, মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।” তিনি প্রত্যেক পরিবারকে নিজ নিজ বাড়ির আঙিনায় অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, গাছ লাগানোর পাশাপাশি গোবর ও সার প্রয়োগ এবং নিয়মিত পরিচর্যা করলে দ্রুত তা বড় হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্পদে পরিণত হবে।
আমান উল্লাহ আমান বলেন, ২৪ বছর আগে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন,“একটু উদ্যোগ, একটু চেষ্টা এনে দেবে সচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা”—এই লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের সময় খাল খনন ও সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে খাদ্য উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছিল। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সারাদেশে আবারও খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই সরকার জনগণের সরকার এবং জনগণের সুখ-দুঃখে সবসময় পাশে রয়েছে। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং জীবনমান উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো একে একে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু হয়েছে। পাশাপাশি ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কেরানীগঞ্জের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে এলাকার সড়ক অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা-ঘাটের উন্নয়নকাজ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও উন্নয়ন করা হবে। কোনাখোলা থেকে হেমায়েতপুর সড়ক উন্নয়নের জন্য ২৯ কোটি টাকার টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই কাজ শুরু হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন পর কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংযোগ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।
আমান উল্লাহ আমান বলেন, জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করাই বিএনপির লক্ষ্য। বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দেয়, তা বাস্তবায়নে বিশ্বাসী।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত করা হবে। কেরানীগঞ্জের ঢাকা-২ আসনে কোনো মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ কিংবা ভূমিদস্যুর স্থান হবে না। মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি মাদক বিক্রি ও সেবন বন্ধে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, কেরানীগঞ্জকে একটি আধুনিক, শান্তিপূর্ণ ও উন্নয়নসমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।
অনুষ্ঠানে শাক্তা ইউনিয়নের প্রশাসক ও কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত হাজী মোঃ শামীম হাসানসহ বিএনপি অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
